ইয়েমেনের মারিবে সেনা-হুথি সংঘাত, নিহত ৮০ জনের বেশি

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ এএম
ইয়েমেনের মারিবে সেনা-হুথি সংঘাত, নিহত ৮০ জনের বেশি

সূত্রঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ মারিবের রাজধানী মারিব সিটির কাছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত হয়েছে। এতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।


রোববার রাতে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি এ তথ্য জানান। তাঁর দাবি, শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টার সংঘাতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত এবং তাদের নয়টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে। এ সময় অনেক হুথি যোদ্ধা পালিয়ে যায় বলেও জানান তিনি।


আল-হাতেমি বলেন, মারিব সিটিতে সংঘাত চলার পাশাপাশি পুরো মারিব প্রদেশজুড়ে অভিযান চালিয়েছে ইয়েমেনের বিমান বাহিনী। এ সময় বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের সামরিক স্থাপনা ও সেনা সমাবেশস্থলে হামলা চালানো হয়।


তবে সংঘাতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।


প্রায় এক যুগ ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ এবং হুথিদের উত্তর ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকা দখলের পর বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশ মারিবে আশ্রয় নিয়েছে। প্রদেশটির বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে ২০ লাখের বেশি মানুষ অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


মারিব প্রদেশের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে থাকলেও প্রাদেশিক রাজধানী মারিব সিটির নিয়ন্ত্রণ এখনও তাদের বাইরে। শহরটি দখলের লক্ষ্যে হুথিদের একাধিক অভিযানে বহু বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত ও আহত হয়েছেন।


২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং ২০১৫ সালে রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সঙ্গে তাদের নিয়মিত সংঘাত চলে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। তবে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে আবারও সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে।


এদিকে, বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানা, আমরান ও হোদেইদায় অন্তত ৫০ জন হুথি যোদ্ধা ও কর্মকর্তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে প্রাণহানির তথ্য দেয়, তা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ১০ শতাংশেরও কম। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন। তবে এই সংখ্যাগুলো ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার দাবি; প্রতিবেদনে হুথিদের পক্ষ থেকে এর কোনো পাল্টা বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।


সূত্র: আরব নিউজ