২০ টাকা দাম বাড়তেই রংপুরের পাম্পে তেলের জন্য হাহাকার

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
২০ টাকা দাম বাড়তেই রংপুরের পাম্পে তেলের জন্য হাহাকার

সূত্রঃ সংগৃহীত

আনোয়ারুল ইসলাম রনি, রংপুর ব্যুরো


জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণার পর রংপুর নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার দিনই সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে অনেক পাম্পে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন—সব ধরনের জ্বালানি তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।


নতুন মূল্য অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হবে।


মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও পরিবহন ব্যয় বা ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশের বাজারে পুরোপুরি সেই প্রভাব সমন্বয় করা হয়নি। ফলে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।


রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার মেসার্স ইউনিক পাম্পে নতুন দামে জ্বালানি বিক্রির সময়ও ছিল ক্রেতাদের চাপ। একইভাবে মেসার্স শাহ ফিলিং স্টেশনে রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।


পাম্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই আগেভাগে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পাম্পগুলোতে ক্রেতার চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।


তবে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকরা। তাদের ভাষ্য, জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতায়াত ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর।


বেসরকারি চাকরিজীবী সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘হঠাৎ করে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের মতো চাকরিজীবীদের প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত করতে হয়। জ্বালানির দাম এভাবে বাড়তে থাকলে মাসিক আয়ের বড় একটি অংশ শুধু যাতায়াতেই চলে যাবে।’


এক চালক বলেন, ‘হঠাৎ করে এভাবে জ্বালানির দাম বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ চালকদের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। গাড়ি চালিয়ে যা আয় করি, তার বড় অংশই জ্বালানির পেছনে চলে যাবে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।’


পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মূল্য পরিবর্তনের কারণে সাময়িকভাবে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা করছেন।


এর আগে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল নিয়ে সংকট ও সরবরাহের চাপ দেখা দিয়েছিল। এবার নতুন করে দাম বৃদ্ধির ঘোষণায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দুটোই তৈরি হয়েছে।