ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন
সূত্রঃ সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে ‘অত্যন্ত রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে শর্তযুক্ত করা অপ্রয়োজনীয় ও কূটনৈতিকভাবে অনভিপ্রেত।
তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া। এ ধরনের প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক বছর সময় লাগতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ ইস্যুকে যুক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বীণা সিক্রির দাবি, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে দুই দফা ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রথমবার ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পরপরই পরিবারসহ সুবিধাজনক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে বিমসটেকের প্রধান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে কোনো আমন্ত্রণেরই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাড়া মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি।
ভারতের সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, এখন যখন দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রস্তুতি চলছে, তখন শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে সফরের সঙ্গে যুক্ত করা অপ্রয়োজনীয় এবং কূটনৈতিক রীতির পরিপন্থী।
এর আগে বাংলাদেশে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন।
গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম জানান, তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করছেন। আলোচনা চললেও গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য উপস্থিতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের হস্তান্তরের বিষয়ে ভারতের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
তবে শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের দায় ভারত সরকার নেবে না।
সূত্র: এএনআই
এমকে/বিএম২৪









