রাবি শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগে ৪ আরএনবি সদস্যের বরখাস্ত
সূত্রঃ সংগৃহীত
ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার রাজশাহী রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চার সদস্য হলেন—মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেন। তাঁদের স্টাফ নম্বর যথাক্রমে সি-৯৮৯, সি-৮৮৩, সি-১৩২১ ও সি-৬০০।
দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের কমান্ড্যান্ট (সদর)-এর কাছে নিয়মিত দৈনিক হাজিরা দিতে হবে।
এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আইয়ুব আলী নামের রাবির এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আহত অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চাচাকে স্টেশন থেকে নিতে গিয়েছিলেন আইয়ুব। এ সময় স্টেশনে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত রেলওয়ের কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
আইয়ুবের সহপাঠী মোহাম্মদ মিজান বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ের কর্মচারীদের বাগ্বিতণ্ডা চলছিল। পরে আইয়ুব তাঁদের পক্ষে কথা বললে তাঁকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন স্টেশন বাজার এলাকায় রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে একদল শিক্ষার্থী রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন কার্যালয়ে গিয়ে জানালার কাঁচ ও চেয়ার ভাঙচুর করেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এর আগে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ টু রাজশাহী রেলস্টেশন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে স্টেশনের দিকে রওনা হন। এতে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আটকের দাবি জানান এবং ট্রেন থামিয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের আটকের হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থীদের রেললাইন অবরোধের কারণে ঢাকাগামী আন্তনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রাও ব্যাহত হয়। রাত ১১টা ২০ মিনিটে রাজশাহী স্টেশন থেকে ট্রেনটির ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা ছাড়েনি।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা কাম্য নয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া স্বাভাবিক। তবে আইনগতভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
চার আরএনবি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রকৃত কারণ, ঘটনায় সরাসরি কারা জড়িত এবং পরবর্তী ভাঙচুর ও রেললাইন অবরোধে কারা অংশ নিয়েছেন—এসব বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।








