আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যেভাবে উঠে এসেছিল শেখ হাসিনার পতন

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ এএম
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যেভাবে উঠে এসেছিল শেখ হাসিনার পতন

সূত্রঃ ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক



ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। বিক্ষোভকারীদের গণভবনমুখী অগ্রযাত্রা এবং দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তিনি ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ঘটনাটি সেদিন বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রধান শিরোনামে স্থান পায়।


বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করে, ‘শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে উচ্ছ্বাস’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটায়। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি ভারতে পৌঁছানোর পর রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং কোটা আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির নির্দেশ দেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


দ্য গার্ডিয়ান শিরোনাম করে, ‘পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, নিশ্চিত করলেন সেনাপ্রধান’। এতে বলা হয়, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিশ্চিত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার কথা জানান।


এনপিআর-এর প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘হাজারো ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে শেখ হাসিনার পতন, ১৫ বছরের শাসনের অবসান’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক বাহিনীর জারি করা কারফিউ উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করলে তিনি পদত্যাগ করেন। সেনাপ্রধান তখন ঘোষণা দেন, সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করবে না; বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত করা হবে।


বার্তাসংস্থা এপি জানায়, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। একই সময়ে হাজারো বিক্ষোভকারী তাঁর সরকারি বাসভবন ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশ করে।


সিএনএন শিরোনাম করে, ‘সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা বাসভবনে হামলা চালালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যান’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়লে তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে যান। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণে তাঁর পদত্যাগ নিশ্চিত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান।


রয়টার্স জানায়, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। শত শত মানুষের প্রাণহানির পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। সেনাবাহিনী তখন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগের কথা জানায়।


দ্য ডিপ্লোম্যাট তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, শেখ হাসিনার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তাঁর ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। একই সঙ্গে জানানো হয়, কারফিউ উপেক্ষা করে হাজারো বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে অগ্রসর হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।


শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর জাতিসংঘ শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সপ্তাহব্যাপী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। সংস্থাটি জানায়, ওই আন্দোলন চলাকালে আনুমানিক ৩০০ জন নিহত, হাজারো মানুষ আহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন।


সেদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সব ঘটনার তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।



এমকে/বিএম২৪