হাসিনা পালানোর পর ভারত যা করেছিল, বিশ্ব যা বলেছিল
সূত্রঃ ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে ঘিরে লাখো মানুষ রাজধানীর গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। ওই দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানায়। কেউ সংযমের আহ্বান জানায়, কেউ গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া
শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পরপরই ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে তাৎক্ষণিকভাবে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়।
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছাত্র, শিক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বহু মানুষের প্রাণহানিতে তারা উদ্বিগ্ন। দেশটি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানায় এবং আটক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের মুক্তি ও চলমান মামলাগুলোতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি তোলে।
তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন তদন্ত পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
জার্মানি
জার্মানি তাদের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইউরোপীয় ইউনিয়ন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং সব পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানায়।
যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার সাম্প্রতিক সহিংসতায় প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী যদি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের নির্দেশ কার্যকর না করে থাকে, তবে সেটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
হোয়াইট হাউসও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়ার আহ্বান জানায় এবং সেনাবাহিনীর সংযমের প্রশংসা করে।
কানাডা
কানাডার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ ও দমন-পীড়নের নিন্দা জানান। পাশাপাশি ক্ষমতা পরিবর্তনের সময় সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।
শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি সাবরি বাংলাদেশের জনগণের ঐক্য ও সহনশীলতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ফিরে আসবে এবং সংকট কাটিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
রাশিয়া
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে ফিরে আসবে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমকে/বিএম২৪









