জুলাই আন্দোলনে জাতিকে চরম রক্তমূল্য দিতে হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান
সূত্রঃ ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই আন্দোলনে জাতিকে চরম ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তমূল্য দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মুক্তিকামী মানুষ শহিদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হন। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ হাত, পা কিংবা চোখ হারিয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
এক বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলন জাতীয় জীবনের ইতিহাসে এক গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, শিশু, প্রবীণ, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এক অভিন্ন দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। পরবর্তীতে ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত এই আন্দোলন এক দফার গণআন্দোলনে রূপ নেয়, যার পরিণতিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।
তিনি দাবি করেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। তবে দেশের মানুষ সব বাধা উপেক্ষা করে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে গণআন্দোলন অব্যাহত রাখে। শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যেতে বাধ্য হন এবং দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে।
বিরোধীদলীয় নেতা শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ আন্দোলনে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী, শহীদ পরিবার ও নির্যাতিতদের প্রতি সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ইনসাফভিত্তিক, সুশাসন ও ন্যায়বিচারসমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিভিন্ন কারণে সেই প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাই শহিদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সার্বভৌমত্ব কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
এমকে/বিএম২৪









