রাজশাহীতে শীতকালীন সবজির বাজারে ধস, আগাম চাষ করেও স্বস্তি নেই কৃষকের
সংগৃহীত
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, রাজশাহী প্রতিনিধি
শীতের আমেজ শুরু হতেই রাজশাহীর বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি। খেতে ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। তবে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাইকারি বাজারে কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। ফলে আগাম সবজি চাষ করে বাড়তি লাভের আশায় থাকা কৃষকদের মুখে এখন হতাশার ছাপ। উৎপাদন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা।
রাজশাহীর পবা, গোদাগাড়ী, মোহনপুর ও চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মূলা, নতুন আলু ও পালংশাকের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এসব সবজির ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও এবার বাজারের চিত্র ভিন্ন। একসঙ্গে প্রচুর সবজি বাজারে আসায় পাইকারি দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে।
পাইকারি বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। বেগুন ও মূলার দাম নেমে এসেছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। আর শিম বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে।
কৃষকদের ভাষ্য, সেচ, জ্বালানি, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় এবার সবজি উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। কিন্তু বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না অনেকে।
পবা উপজেলার সবজি চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, আগাম ফসল তুলতে পারলে বেশি দামে বিক্রি করা যাবে—এমন আশায় দিনরাত পরিশ্রম করে খেত পরিচর্যা করেছেন। কিন্তু সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় এক কেজি ফুলকপি উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১৫ টাকার বেশি। অথচ হাটে সেই ফুলকপি বিক্রি করতে হচ্ছে ১৫ থেকে ১৮ টাকায়। এতে লাভ তো দূরের কথা, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচও উঠছে না।
মোহনপুরের চাষি আলিমুদ্দিনও একই ধরনের হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, সবজি বিক্রির টাকা থেকে পরিবহন খরচ মেটানোর পর হাতে সামান্য অর্থ থাকে। তা দিয়ে সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধান নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে কম দামে সবজি বিক্রি হলেও শহরের খুচরা বাজারে তার সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতবদলে একই সবজি দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারদের যোগসাজশে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টির কারণে সবজির উৎপাদন ভালো হয়েছে। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে আসায় সাময়িকভাবে দাম কমেছে। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা জোরদার এবং পাইকারি বাজার মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভালো ফলন হলেও উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে রাজশাহীর সবজি চাষিরা প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধান কমাতে সরকারি নজরদারি বাড়ানো এবং কৃষকদের সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। অন্যথায় আগাম সবজি চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন এ অঞ্চলের অনেক কৃষক।
এমকে/বিএম২৪









