বিএসইসিতে নির্বাহী পরিচালকদের ক্ষমতা বাড়ল, কমবে সিদ্ধান্তে দীর্ঘসূত্রিতা

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
বিএসইসিতে নির্বাহী পরিচালকদের ক্ষমতা বাড়ল, কমবে সিদ্ধান্তে দীর্ঘসূত্রিতা

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


শেয়ারবাজারের কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালকদের দায়িত্ব ও কার্যকরী ভূমিকা বাড়ানো হয়েছে।


সম্প্রতি বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ২০(এ) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা ওই আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত অধিকাংশ আবেদন, প্রতিবেদন, বিবরণী, চিঠিপত্র ও অন্যান্য নিয়মিত-অনিয়মিত নথি সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বা নির্বাহী পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জমা দিতে হবে।


বিএসইসি জানিয়েছে, শেয়ারবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বিষয় দ্রুত, দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


এর আগে আত্ম-নিয়ামক সংস্থা, তালিকাভুক্ত ও অন্যান্য সিকিউরিটির ইস্যুয়ার, নিবন্ধিত বাজার মধ্যস্থতাকারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আবেদন ও চিঠিপত্র প্রথমে কমিশনের চেয়ারম্যান বা কমিশনারদের দপ্তরে জমা দেওয়া হতো। পরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হতো। এই কেন্দ্রীভূত প্রক্রিয়ায় নথি গ্রহণ, স্থানান্তর ও পরবর্তী কার্যক্রমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হতো।


নতুন ব্যবস্থায় সেই অতিরিক্ত প্রশাসনিক ধাপ কমিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালকের কাছে সরাসরি নথি জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে বিভাগগুলো দ্রুত যাচাই-বাছাই, পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।


তবে সব ধরনের আবেদন বা নথি নির্বাহী পরিচালকের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে না। গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পাঁচ ধরনের বিষয় সরাসরি কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে দাখিল করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগ, তথ্য প্রকাশকারীর দেওয়া তথ্য বা ঘোষণা, কমিশনের নির্দেশে পরিচালিত অনুসন্ধান বা তদন্ত প্রতিবেদন, বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য বিশেষ বিষয়।


এ ছাড়া কমিশনের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত আবেদন, প্রতিবেদন ও অভিযোগ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই জমা দিতে হবে।


বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে বিএসইসির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে গতি আসবে, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে এবং শেয়ারবাজারের অংশীজনদের সঙ্গে কমিশনের যোগাযোগ ও সেবা আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বিভাগীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায় প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী হবে।