মোহাম্মদপুরে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৬
সূত্রঃ সংগৃহীত
সিজান হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায় একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে নবীনগর হাউজিংয়ের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানটির কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা দিতে এবং তাদের কথামতো কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ইমরানকে মারধর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমরানের বাম হাতের কবজির ওপর আঘাত করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
ঘটনার পর মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ভোলার লালমোহনের মো. রিফাত হোসেন (২২), ঢাকার গেন্ডারিয়ার মো. শুভ (২৬), ভোলার চরফ্যাশনের মো. ইলিয়াস (২২), বোরহানউদ্দিনের মো. মহাসিন (২৪), পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার ইমন মৃধা (২৩) এবং ভোলার চরফ্যাশনের মো. সাব্বির (২২)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই বর্তমানে মোহাম্মদপুর এলাকায় বসবাস করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আগের মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিফাতের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। শুভ ও ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে মোহাম্মদপুর থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়। ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই পুলিশ অ্যাসল্টের একটি মামলাও রয়েছে।
মহাসিনের বিরুদ্ধে ভোলার বোরহানউদ্দিন থানায় ২০২৩ সালের একটি যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা রয়েছে। আর ইমন মৃধার বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
এমকে/বিএম২৪









