কার্যবিবরণী প্রকাশ করল ডাকসু, ছারপোকা দমনে ব্যয় ৩২ লাখ টাকা

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১২ এএম
কার্যবিবরণী প্রকাশ করল ডাকসু, ছারপোকা দমনে ব্যয় ৩২ লাখ টাকা

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


দায়িত্বকালের এক বছরের কার্যক্রমের বিবরণী প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এতে শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা, গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম এক বছরের কার্যক্রম ও জবাবদিহি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।


সংবাদ সম্মেলনে পুরো কার্যক্রমের অডিট প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলেও উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশনে কয়েকটি খাতে ব্যয়ের পরিমাণ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে বছরব্যাপী ছারপোকা দমন কার্যক্রমে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানানো হয়েছে।


এ ছাড়া শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নে ৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক জিমনেসিয়াম নির্মাণে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হল সংস্কারে ৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দ বা আদায়ের কথাও প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে প্রতিবেদনে একাধিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হলেও সবগুলোর বিস্তারিত ব্যয়ের হিসাব এখনো প্রকাশ করেনি ডাকসু।


এ বিষয়ে ভিপি আবু সাদিক কায়েম সমকালকে বলেন, অডিটের কাজ চলছে। খরচের বিস্তারিত হিসাব কিছুদিনের মধ্যেই জানানো হবে।


সমাজসেবা সম্পাদকের ৩৫ কোটি টাকার কাজের দাবি প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু যে কাজ করেছে, তা ৩৫ কোটি টাকার চেয়েও বেশি। তবে প্রশাসনের বাধার কারণে অনেক কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ডাকসুর জন্য নির্ধারিত বাজেট এখন পর্যন্ত প্রশাসন দেয়নি। পুরো সময়জুড়ে প্রশাসন বিমাতার মতো আচরণ করেছে। এরপরও এক বছরে আবাসন, পরিবহন, হলের খাবারের মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্য গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডাকসুর কমিটিগুলো এক হাজারের বেশি কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।


শিক্ষক মূল্যায়ন প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট একাডেমিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত হলেও প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ডাকসুর উদ্যোগে ‘DU Teachers’ Evaluation’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়।


কার্যবিবরণী অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ, হলভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ এবং বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। গবেষণা বিষয়ে কর্মশালা, গবেষণা প্রস্তাবনা তৈরির প্রশিক্ষণ, বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সেশন এবং শিক্ষা এক্সপোর মতো বিভিন্ন কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়।


পরিবহন খাতে শনিবার বাস সার্ভিস চালু, বিভিন্ন রুটে সন্ধ্যার ট্রিপ, নারী হলগুলোর জন্য বাস এবং সাপ্তাহিক ঢাকা-কুমিল্লা বাস সার্ভিস চালুর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বিভিন্ন রুট সম্প্রসারণের উদ্যোগের তথ্যও দেওয়া হয়েছে।


এক বছরের কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে ‘খতিয়ান’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে ডাকসু। বইটির একটি বড় অংশে বাস্তবায়ন না হওয়া বা আটকে থাকা বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, সার্টিফিকেশন সহায়তা, ইনোভেশন হাব ও চাকরি মেলাসহ ছয়টি উদ্যোগ এখনো আটকে রয়েছে।


এ ছাড়া মাঠ সংস্কার ও ডিজিটাল সেবা, হলগুলোতে ভর্তুকি মূল্যে খাবার, ডাকসু ক্যান্টিন সংস্কার, পুকুরপাড় সৌন্দর্যায়ন, ওয়াকওয়ে ও আলোকসজ্জাসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের ক্যান্টিন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিন, মোবাইল টয়লেট, নতুন যানবাহন সংগ্রহ এবং বিভিন্ন হলের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ আরও কয়েকটি উদ্যোগ আটকে থাকার কথা জানানো হয়েছে।


এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান বিতরণ, নারী শিক্ষার্থীদের জিমনেসিয়াম চালু এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার নিয়েও বইটিতে অসন্তোষের কথা তুলে ধরা হয়েছে।