বিএনপির দুর্দিনের ঢাল সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সুদিনে খসে পড়া এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
সূত্রঃ ফাইল ছবি
মো.আসাদুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সোনালি ফসল হিসেবে সুপরিচিত সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দলের চরম দুঃসময়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেও, সুদিনে এক নিদারুণ অবহেলার পাত্রে পরিণত হয়েছেন। দল তাঁকে বহিষ্কার করলেও, একরাশ দলীয় মামলার ফাইল কাঁধে নিয়ে ঘুরছেন কোর্টের দ্বারে-দ্বারে!
সম্প্রতি, এক বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নব্বই দশকের এই ছাত্রদল নেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের এমনই করুণ প্রতিচ্ছবি এবং সব হারিয়েও, তাঁর ভয়ংকর অপ্রাপ্তির সমীকরণ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, দলীয় অবদান এবং বর্তমান অবস্থান নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি নটর ডেম কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
ছাত্রদলের কয়েকজন সাবেক নেতা দাবি করেন, বিএনপির রাজনৈতিক সংকটের সময় সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে এবং নতুন কর্মী তৈরিতে ফিরোজ ভূমিকা রেখেছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একাধিক নেতা-কর্মী বলেন, ‘ফিরোজ ভাই আমাদের অনুপ্রেরণার বাতিঘর। আমরা কয়েকশ ছেলে তাঁর হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলাম। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ ছাত্রনেতা তাঁর দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় ২০১৩ সালের লাগাতার অবরোধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছেন। বিএনপির জন্য ফিরোজ ভাইয়ের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তারেক রহমানের অবর্তমানে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে দলের চরম দুর্দিনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ছিলেন এক বিপ্লবী কণ্ঠস্বর।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নেন সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি ওই আসনে রাশেদ খানকে মনোনয়ন দেয়। এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন নেতা বলেন, ফিরোজ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে দলের সিদ্ধান্ত ছিল, মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল।
বর্তমানে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব মামলায় তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।
বহিষ্কার প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, "আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী। সারাজীবন বিএনপির একজন কর্মী ও সমর্থক হিসেবে থাকতে চাই। আমি যা করেছি, দলের জন্যই করেছি এবং ভবিষ্যতেও দলের জন্য কাজ করে যাব।"
তিনি আরও বলেন, "কালীগঞ্জে দলকে সংগঠিত রাখার চেষ্টা করেছি। দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি, তবে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি। ভবিষ্যতেও বিএনপির আদর্শের প্রতি আমার সমর্থন থাকবে।"
তবে এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে দল থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এমকে/বিএম২৪








