বাকৃবিতে তিন পর্বে উপাচার্যের মতবিনিময়, সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
বাকৃবিতে তিন পর্বে উপাচার্যের মতবিনিময়, সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা

সূত্রঃ সংগৃহীত

মেহেরাজ হোসেন, বাকৃবি প্রতিনিধি


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এ ছাড়া ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীমসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


মতবিনিময় সভাটি পৃথকভাবে তিন পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও পরিচালকদের সঙ্গে এবং তৃতীয় পর্বে দুপুর ১টা পর্যন্ত কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন উপাচার্য।


তিন পর্বের সভাতেই উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে হবে।


উপাচার্যের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সেগুলোর সমাধানে এ ধরনের মতবিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামো বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সৌন্দর্যের মধ্যে নয়। এর মূল শক্তি হলো শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রতিটি মানুষের মেধা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সততার সমবেত প্রচেষ্টা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় তার শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রস্তুত হয়। তাই বাকৃবিকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।”


তিনি আরও বলেন, “খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বাকৃবির ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে হওয়ায় আমরা কিছুটা কম সুযোগ পাই। যারা ঢাকার আশপাশে থাকে, তারা বেশি সুযোগ পায়। সেজন্য আমাদের এ বিষয়টি মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।”


উপাচার্য বলেন, “আমাদের শিক্ষকরা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন। এত গবেষণা বাংলাদেশের কোথাও হয় না। এত মাস্টার্স ও পিএইচডি বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় না। এটা আমাদের বড় অর্জন এবং সুযোগ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।”


কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশৃঙ্খল, সৎ ও দক্ষ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাব নেই। আমি তাঁদের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করতে চাই। তবে কেউ যদি মনের অজান্তে নিজেকে কোনো ভুল পথে পরিচালিত করে থাকেন, তাঁরা নিজেদের দুর্বলতাগুলো দূর করে খাঁটি মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করবেন।”


তিনি আরও বলেন, “সময়মতো অফিসে আসা, ক্লাস নেওয়া ও গবেষণা পরিচালনা করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আপনারা আপনাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আজ থেকে হাতে হাত মিলিয়ে ন্যায়নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত করব। আমাদের প্রতিটি ঐতিহ্যকে আরও গৌরবময় করে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করব।”


এমকে/বিএম২৪