প্যাথোলজি ও এক্স-রে বন্ধ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই যবিপ্রবি মেডিকেলে

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
প্যাথোলজি ও এক্স-রে বন্ধ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই যবিপ্রবি মেডিকেলে

সংগৃহীত

সাকিবুল ইসলাম, যবিপ্রবি প্রতিনিধি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মেডিকেল সেন্টারে জনবলসংকট ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। প্রায় ১০ মাস ধরে অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে প্যাথোলজি ল্যাব। কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে সেবাও। এ ছাড়া মনোরোগ, দন্ত ও চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা।

বিশেষ করে ডেঙ্গুর মৌসুমে জ্বরসহ সংশ্লিষ্ট উপসর্গে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে। মেডিকেল সেন্টারে ডেঙ্গু শনাক্তের এনএস১ ও আইজিজি/আইজিএম পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এসব পরীক্ষা করাতে তাঁদের যেতে হচ্ছে যশোর শহরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। ক্যাম্পাস থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কিলোমিটার। অথচ মেডিকেল সেন্টারের নির্ধারিত ফি-তালিকা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি পরীক্ষার ফি ২১০ টাকা। ল্যাবটি সচল থাকলে তুলনামূলক কম খরচে ক্যাম্পাসেই এসব পরীক্ষা করানোর সুযোগ পেতেন তাঁরা।

অন্যদিকে, এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকায় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলায় মাঠে খেলতে গিয়ে অনেকে চোট পাচ্ছেন। তাঁদের কারও এক্স-রে করার প্রয়োজন হলে ক্যাম্পাসের বাইরে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা নিতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদ হাসান নাহিদ বলেন, “দীর্ঘদিন জ্বরে আক্রান্ত থাকার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে আমাকে ক্যাম্পাসের বাইরের হাসপাতালে যেতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্যাথোলজি ল্যাবে পরীক্ষা করানোর সুযোগ থাকলে আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। তাই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ল্যাবটি দ্রুত সচল করা প্রয়োজন।”

প্যাথোলজি ল্যাব অকার্যকর থাকার কারণ সম্পর্কে মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এখানে প্যাথোলজি বিভাগে কোনো টেকনোলজিস্ট নেই। ফলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল কিটগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।”

মেডিকেল সেন্টারের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল বলেন, “আমরা ২০২২ সাল থেকে মেডিকেল সেন্টারে প্যাথোলজি ও এক্স-রে সেবা দিয়ে আসছি। প্যাথোলজি ও এক্স-রে বিভাগের জন্য প্রায় ছয় বছর আগে রিজেন্ট বোর্ডের বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে দুজন টেকনোলজিস্টকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে পদ দুটি স্থায়ী না হওয়ায় টেকনোলজিস্টরা ভালো সুযোগ পেলে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যান। এ ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে, ফলে সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পদ দুটি স্থায়ী করার জন্য আমরা একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। বর্তমান উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেও পুনরায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে এক্স-রে টেকনোলজিস্ট পদের অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্যাথোলজি ল্যাবের টেকনোলজিস্ট নিয়োগের বিষয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুতই চুক্তিভিত্তিক বা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে এ পদে নতুন টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।”

সমাধানে প্রশাসনের উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির বলেন, “প্যাথোলজি বিভাগের টেকনোলজিস্টের পদটির বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। অস্থায়ী পদ হওয়ায় এখানে জনবল ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে, যা সেবা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। টেকনোলজিস্ট নিয়োগের বিষয়টিও আমরা এগিয়ে নিচ্ছি। চলতি মাসে ছুটি থাকায় আগামী মাসে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এক্স-রে সেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “এক্স-রে মেশিনের একটি ব্যাটারি নষ্ট হয়েছে। সেটি মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্য তিনবার টেন্ডার পাঠানোর পর অবশেষে বাজেট অনুমোদিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এক্স-রে সেবা পুনরায় চালু করার আশা করছি। মেশিনটি নষ্ট থাকায় সংশ্লিষ্ট টেকনোলজিস্ট বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তিনি দ্রুত ফিরে আসবেন।”

তিনি আরও বলেন, “এক্স-রে টেকনোলজিস্টের পদটি ইতিমধ্যে ইউজিসি থেকে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। পদটি স্থায়ী করার বিষয়ে ফাইল বর্তমানে মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া মেডিকেল সেন্টারে চক্ষুরোগ, দন্ত ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ সৃষ্টির জন্য ইউজিসির কাছে চাহিদা উল্লেখ করে আবেদন করা হয়েছে।”

এমকে/বিএম২৪