পরিযায়ী পাখির আগমনকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপ
সংগৃহীত
মো: শফিউল আলম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
শীতের আগমনে দেশের বিভিন্ন জলাভূমিতে আসতে শুরু করে নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। প্রতিবছর শীত মৌসুমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ময়না দ্বীপসহ আশপাশের জলাশয়ে দেখা মেলে এসব পাখির। তাদের আগমনের আগেই পাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ময়না দ্বীপ পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত শীত মৌসুমে অতিথি পাখির বিচরণে মুখর ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়না দ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়। গ্রীষ্মের শুরুতে পাখিগুলো ফিরে যাওয়ার পর বর্ষা মৌসুমে দ্বীপের জলাশয়ে ব্যাপকভাবে কচুরিপানা জন্মায়। শীত মৌসুম সামনে রেখে এখন সেগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এ উদ্যোগের লক্ষ্য পাখিদের জন্য উপযোগী আবাসস্থল তৈরি এবং তাদের নির্বিঘ্ন বিচরণের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
প্রতিবছর শীত মৌসুমে অতিথি পাখির আগমনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় ভিন্ন রকমের পরিবেশ। পাখি দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসেন নানা শ্রেণি-পেশার দর্শনার্থী। পাখির কলকাকলি, জলাশয়ে তাদের বিচরণ এবং দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্যাম্পাসকে আকর্ষণীয় করে তোলে। শিক্ষার্থীদের কাছেও ময়না দ্বীপ হয়ে ওঠে অবসর কাটানো ও প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগের অন্যতম স্থান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিতম চক্রবর্তী বলেন, "শীতকালে বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখির আগমন ঘটে,তারমধ্যে নোবিপ্রবি একটি।এটি আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের। অতিথির পাখির আগমন আমাদের ক্যাম্পাসকে অন্য রকম সৌন্দর্য দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রকৃতির এমন সান্নিধ্য পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা চাই, পাখিরা নিরাপদে থাকুক এবং প্রতিবছর আরও বেশি পাখি এখানে আসুক।"
পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে কমিটি
ময়না দ্বীপের নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টার থেকে স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের লেকের সৌন্দর্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিযায়ী পাখিদের বিচরণের উপযোগী অভয়ারণ্য তৈরি ও রক্ষায় গবেষণাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় এই কমিটিকে।
উক্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা সুলতানা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিনা আলম এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসান ও নিশাত ফারাবি।
ময়নাদ্বীপ পরিষ্কারের বিষয়ে উক্ত কমিটির আহবায়ক সহকারী অধ্যাপক ড.নাহিদ সুলতানা বলেন, "আমরা অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কচুরিপানা পরিষ্কার করছি এবং পাখির বসার জন্য ক্যানোপি প্রস্তুত করা হচ্ছে।পরিযায়ী পাখির জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ময়না দ্বীপকে তৈরি করার জন্য আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।"
পরিযায়ী পাখির প্রজাতির সংখ্যার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদ সুলতানা বলেন,"আমরা এখনো এবিষয়ে সঠিক তথ্য পাইনি। কিছু পাখি সকালবেলা ময়না দ্বীপ এলাকায় উড়তে দেখা যায়। আমরা এবছর এখনো তাদের প্রজাতির সংখ্যা গণনা করতে পারিনি। ময়না দ্বীপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে আমরা সঠিকভাবে তা জানাতে পারবো।পাখির সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। তাই আমরা আশা করি এইবছর গতবছরের তুলনায় বেশিসংখ্যক পাখি আসবে।"
অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে আবাসস্থল পরিষ্কারের পাশাপাশি শিকার প্রতিরোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাখির আবাসস্থল রক্ষায় নিয়মিত পরিচর্যা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ময়না দ্বীপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমকে/বিএম২৪









