নড়িয়া পৌরসভার দুই নারী কর্মচারীকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ এএম
নড়িয়া পৌরসভার দুই নারী কর্মচারীকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ

সূত্রঃ সংগৃহীত

শরীয়তপুর প্রতিনিধি


শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় অফিস সহায়ক পদে কর্মরত দুই নারী কর্মচারীকে ব্যক্তিগত বাসার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত কাজে যেতে অনীহা প্রকাশ করলে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এক কর্মচারী।


অভিযোগ অনুযায়ী, পৌরসভার অফিস সহায়ক রিতা রানী প্রতিদিন সকালে পৌরসভা কার্যালয়ে হাজিরা দেওয়ার পর প্রশাসকের বাসায় চলে যান। সেখানে কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর দুপুর ১টার দিকে তিনি আবার পৌরসভা কার্যালয়ে ফেরেন। অপর অফিস সহায়ক নাসিমা বেগমকেও মাঝেমধ্যে প্রশাসকের বাসায় কাজ করতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।


জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস নড়িয়া পৌরসভার প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রিতা রানীকে নিয়মিত এবং নাসিমা বেগমকে মাঝেমধ্যে তার বাসায় পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।


পৌরসভা সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিতা রানী প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে পৌরসভায় হাজিরা দেন। এরপর তিনি প্রশাসকের বাসায় চলে যান। সেখানে কাজ শেষে দুপুর ১টার দিকে পৌরসভা কার্যালয়ে ফিরে আসেন।


দুপুর ১টার দিকে পৌরসভায় ফেরার সময় রিতা রানীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তিনি প্রশাসকের বাসা থেকেই ফিরেছেন। সপ্তাহে কত দিন তাকে এভাবে যেতে হয়—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রতিদিনই যেতে হয়। না গেলে চাকরি থাকবে না।”


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, অফিস সহায়ক পদে নিয়োজিত কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাসার কাজে পাঠানোর কারণে দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে। একই সঙ্গে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় কর্মচারীদের অনেকটা বাধ্য হয়েই এসব কাজ করতে হচ্ছে।


ওই কর্মচারীর দাবি, রিতা রানীকে প্রতিদিনই প্রশাসকের বাসায় যেতে হয়। তিনি যেতে অনীহা প্রকাশ করলে চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। আবার অনেক সময় রিতা রানী ও নাসিমা বেগম—দুজনকেই একসঙ্গে বাসায় কাজ করতে যেতে হয়।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশাসক ছোট একটি মেয়েকে নিয়ে একা থাকেন। বাসায় স্থায়ী গৃহকর্মী থাকলেও মাঝেমধ্যে প্রশাসকের অনুরোধে রিতা রানীকে শিশুটির দেখাশোনার জন্য পাঠানো হয়। তবে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।


অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক লাকি দাসও ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, মাঝেমধ্যে রিতা রানীকে তার বাসায় নেওয়া হয়। তার ভাষ্য, তিনি ছোট সন্তানকে নিয়ে একা থাকেন। বাসায় স্থায়ী গৃহকর্মী থাকলেও প্রয়োজনের সময় রিতা রানীকে মেয়ের দেখাশোনার জন্য ডাকা হয়।


অফিসের কর্মচারীকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা বিধিসম্মত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লাকি দাস বলেন, এটি নিয়মসম্মত নয়। তবে পরিস্থিতির কারণে মাঝেমধ্যে এমনটি করতে হয়েছে। সাংবাদিকদের আপত্তির পর ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করাবেন না বলেও জানান তিনি।


এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বিষয়টি মানবিক দিক থেকেও দেখা যেতে পারে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) একা থাকেন এবং তার ছোট সন্তান রয়েছে। তবে পৌরসভা উপজেলা প্রশাসনের অধীন নয়। তাই এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে চান না। তবে সহকর্মী হিসেবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেবেন বলে জানান তিনি।


এমকে/বিএম২৪