ডাক্তার ও জনবল সংকটের কারণে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
ডাক্তার ও জনবল সংকটের কারণে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

সূত্রঃ সংগৃহীত

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি


কুড়িগ্রামের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো)-দের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে রোগীদের। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার লাখো মানুষ।


সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে ১০০ শয্যার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পরে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আটতলা নতুন ভবন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে রোগী ভর্তি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম চালু হয়নি।


অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির নকশাগত ত্রুটির কারণে জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য র‌্যাম্প, পর্যাপ্ত লিফটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টিতে কাচ ভেঙে পড়া ও দেয়ালের টাইলস খসে পড়ার মতো ঘটনায় রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৭৭টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৯ জন। এছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৩৮৮টি পদের মধ্যে ২৩১টিই শূন্য। ফলে প্রায় সোয়া লাখ মানুষের জন্য একজন চিকিৎসকের সেবা নিশ্চিত করতে হচ্ছে।


চিকিৎসক সংকটের কারণে জরুরি ও বহির্বিভাগে অধিকাংশ রোগীকেই সেকমোর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। জটিল ও বিশেষায়িত রোগের চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।


ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী হাসপাতালে আসায় অনেককে বারান্দা ও মেঝেতে অবস্থান করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে জেলার প্রধান এই সরকারি হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগীরা।


রোগী জুলেখা বেগম বলেন, হাসপাতালের কয়েকটি বারান্দায় রেলিং নেই, বাথরুমের দরজা ভাঙা, দেয়াল থেকে টাইলস খসে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টিতে জানালার কাচ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া ছোট দুটি লিফটের কারণে রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।


আরেক রোগী মজিবর রহমানের অভিযোগ, হাসপাতালে ওষুধের সংকট রয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার বেশিরভাগই বাইরে করতে হয়। চিকিৎসকের উপস্থিতিও খুব সীমিত, বিশেষ করে ছুটির দিনে চিকিৎসক পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।


বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা বুলবুলি আক্তার বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চিকিৎসকের পরিবর্তে সেকমোর কাছে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসা অবহেলার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক এরশাদুল হক জানান, প্রায় ২০ বছর পুরোনো দুটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েই রোগী পরিবহন করা হচ্ছে। প্রায়ই মাঝপথে বিকল হয়ে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে নতুন অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন।


হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জনবল স্বল্পতার কারণে সেকমোদের দিয়েই অনেক সেবা পরিচালনা করতে হচ্ছে। নতুন ভবনেও নকশাগত কিছু ত্রুটি রয়েছে। তিনি বলেন, নতুন চিকিৎসক যোগ দিলেও অনেকেই উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য অন্যত্র চলে যান। ফলে সংকট কাটছে না। হাসপাতালের সার্বিক সেবার উন্নয়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


এমকে/বিএম২৪