গুরুদাসপুরে মাদ্রাসায় ছাত্রীর মৃত্যু, রহস্য উদঘাটনে মরদেহ ফরেনসিকে

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৫ এএম
গুরুদাসপুরে মাদ্রাসায় ছাত্রীর মৃত্যু, রহস্য উদঘাটনে মরদেহ ফরেনসিকে

সূত্রঃ সংগৃহীত

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:


নাটোরের গুরুদাসপুরে হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক এক ১৬ বছর বয়সী ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ওয়াবদা বাজার এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসা থেকে অচেতন অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য তৈরি হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মরদেহটি অধিকতর পরীক্ষার জন্য রাজশাহী ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ছাত্রীটি ওই মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে তার মা ও খালু তাকে মাদ্রাসা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।


ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসার সুপার ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন। নিহত ছাত্রীর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসার সুপার ও এক শিক্ষিকাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ছাত্রীটির মৃত্যু রহস্যজনক হওয়ায় ময়নাতদন্তের পর মরদেহ রাজশাহী ফরেনসিক বিভাগে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ছাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মা মাদ্রাসার গোসলখানায় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথাও বলা হয়। এদিকে নাটোর সদর হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত নিয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।


নিহত ছাত্রীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। সেই বিচার আমি আল্লাহর কাছে দিলাম।” তবে তার এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার ও তার স্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, ওই হাফেজিয়া মাদ্রাসায় বেশ কয়েকজন ছাত্রী আবাসিক থেকে পবিত্র কুরআন হিফজ করছেন। মাদ্রাসার ভেতরে এক ছাত্রীর মৃত্যুর খবর তিনি পেয়েছেন। এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।


গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, পরিবারের অসম্মতি থাকা সত্ত্বেও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আধুনিক পরীক্ষার জন্য মরদেহটি রাজশাহী ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।



এমকে/বিএম২৪