কালিগঞ্জে রাস্তা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, বৃক্ষ কর্তন ও জমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
কালিগঞ্জে রাস্তা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, বৃক্ষ কর্তন ও জমি দখলের অভিযোগ

সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার


সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মানপুর গ্রামে চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, গাছপালা কর্তন ও জমি দখলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন নারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে একটি পক্ষ। পাশাপাশি স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।


শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মানপুর সরদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানপুর গ্রামের ছবেদ আলী সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম ও আরিফুর ইসলামের সঙ্গে জব্বার সরদারের ছেলে সফিকুল, সৈয়দ আলীর ছেলে আমিরুল এবং লতিফ সরদারের ছেলে আবুল কাশেমসহ তাঁদের শরিকদের দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে জমিজমা সংক্রান্ত একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।


আবুল কাশেমের অভিযোগ, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে শরিফুল ইসলাম ও আরিফুর ইসলাম শতাধিক লোকজন নিয়ে কবরস্থানের সীমানার বেড়া কেটে গাছপালা কর্তন করে জমি দখল করেন। এতে বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় জাহানারা খাতুন, লুৎফুন্নেছা ও নাজমুন নাহার আহত হন। নাজমুন নাহারের দাবি, হামলার সময় তাঁর কানের দুল ও গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তাঁরা।


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরিফুল ইসলাম ও আরিফুর ইসলাম। তাঁদের দাবি, প্রায় ৭০ বছর ধরে তাঁরা ওই পথ দিয়ে চলাচল করছেন। কিন্তু তিন-চার মাস আগে প্রতিপক্ষ বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ সংকুচিত করে দেওয়ায় তাঁদের পোলট্রি খামারের মালামাল পরিবহন ও বিপণনে সমস্যা তৈরি হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা চলাচলের পথ সম্প্রসারণ করেছেন এবং পথের মধ্যে থাকা গাছপালা কেটেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা কোনো হামলা বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত নন; বরং পথ সম্প্রসারণের সময় প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তাঁরা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছেন মাত্র।


এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটিতে উভয় পক্ষেরই স্বত্ব ও দাবি রয়েছে। পূর্বপুরুষদের সময় থেকে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষই ওই পথ দিয়ে চলাচল করে আসছেন। তবে কয়েক মাস আগে একটি পক্ষ বেড়া দিয়ে পথটি সংকুচিত করে দেয়। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেও সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শরিফুল ইসলামরা পথটি সম্প্রসারণ করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।


এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাস্তার প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং সংঘর্ষের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


এমকে/বিএম২৪