কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজের অভিযোগ, ওসি প্রত্যাহার

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজের অভিযোগ, ওসি প্রত্যাহার

সূত্রঃ সংগৃহীত

নোয়াখালী প্রতিনিধি 


নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়িতে দাওয়াতে অংশ নেয়ার অভিযোগ এবং সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই সংগঠনের মিছিলের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় তাকে সেনবাগ থানা থেকে প্রত্যাহারের আদেশ দেয়া হয়। বর্তমানে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন।


রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার।


জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে সেনবাগ উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে অংশ নেন ওসি আবদুর রহিম সরকার। ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা শুরু হয়।


এর মধ্যে শুক্রবার রাতে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। এ ঘটনায় ওসির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।


পরে শনিবার রাতে আবদুর রহিম সরকারকে সেনবাগ থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।


নতুন দায়িত্ব পাওয়া পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে ওসির দাওয়াতে অংশ নেয়ার বিষয়টি তিনি দেখেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ওসি দায়িত্ব হস্তান্তর করে থানা থেকে চলে যান। তবে কী কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না।


এ দিকে বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় শনিবার সেনবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, একজনের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে এখনও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।