সেনবাগের ওসিকে ক্লোজড: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
সেনবাগের ওসিকে ক্লোজড: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের অভিযোগ

সূত্রঃ ফাইল ছবি

জুয়েল রানা, নোয়াখালী প্রতিনিধি


নোয়াখালীর সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম সরকারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নোয়াখালী জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাকে ক্লোজড করার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওসিকে ক্লোজড করার ঘটনাকে ঘিরে ব্যক্তিগত বিরোধ, মাদক মামলায় আটক এক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ওসির যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।


স্থানীয় সূত্রের দাবি, উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের বাসিন্দা এ কে এম গোলাম সরোয়ারের সঙ্গে একই এলাকার চট্টগ্রামের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান খোকনের দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।


সম্প্রতি বাতানিয়া গ্রামের আবদুর রহিম নামে এক ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটক করে সেনবাগ থানা-পুলিশ। তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য এ কে এম গোলাম সরোয়ার তদবির করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ওসি আবদুর রহিম সরকার ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।


এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান খোকনের আমন্ত্রণে একটি দাওয়াতে অংশ নেন ওসি আবদুর রহিম সরকার। ওই অনুষ্ঠানের কিছু ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।


অভিযোগ রয়েছে, এরপর এ কে এম গোলাম সরোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসি আবদুর রহিম সরকার ও ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনকে ঘিরে বিভিন্ন বক্তব্য ও ছবি প্রচার করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ওসিকে ক্লোজড করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন।


এদিকে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান খোকনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। তবে তিনি কোনো সময় আওয়ামী লীগ বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন কিংবা কোনো কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


ওসি আবদুর রহিম সরকারকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কী কারণ দেখানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওসি কিংবা এ কে এম গোলাম সরোয়ারের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।