ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জবিতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জবিতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

সূত্রঃ বিডি মেইল

মো. সিয়াম আবু রাফি, জবি প্রতিনিধি 


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনকে নিয়ে যুগ্ম আহ্বায়ক (১৭ নম্বর) নাহিয়ান বিন হক অনিকের দেওয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।


রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, বাহাদুর শাহ পার্ক সংলগ্ন চায়ের দোকানের পাশে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে সংঘর্ষ ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজনকে রড ও পাইপ নিয়ে হামলা করতে দেখা যায়। এসময় ভয়ে শিক্ষার্থীদেরও দৌড়াতে দেখা যায়।


এ ঘটনায় আহতরা হলেন, অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাদুদ ও লোক প্রশাসন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন। বাকিদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।


এদিকে, সংঘর্ষের পর শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফীনের কর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে সরে যায়। এসময় অনিক গ্রুপের কর্মীড়া ক্যাম্পাসে শোডাউন দেয়। পরে সংগঠিত হয়ে শামসুল আরেফীন গ্রুপের কর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শোডাউন দেয়। বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।


জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক ভবনের তৃতীয় তলায় ‘শিক্ষা ভাবনা, ওরিয়েন্টালিজম এবং চিন্তার মৌলিকত্ব’ বিষয়ে একটি পাঠচক্রের আয়োজন করেন ছাত্রদলের জবি শাখার সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন।


এর পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন রাতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিক। পোস্টে তিনি শামসুল আরেফিনের নাম উল্লেখ করে তার আয়োজিত পাঠচক্র ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তবে পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই সেটি মুছে ফেলেন নাহিয়ান বিন হক অনিক।


সেই পোস্টে তিনি লিখেন, "একটা পাডা কতোগুলো ছাত্রলীগ, শিবির আর হাইব্রিড নিয়ে ধাপ্পাবাজির ক্লাস খুলছে। যেখানে ওর মতো গরু তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই পাডা কথা বলতে বলতে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে প্রায় মাটিতে শুয়ে পরে। জাস্ট লাইক এ্যা জোকার..!!

তুমি না হয় এরওর পা টিপে সামহাউ কিছু একটা হইছো। তুমি যেই ভেড়ার ১২-১৩ জনের পাল তৈরি করেছো-ওখানে আলো ছড়াবে এমন কাউকে দেখছি না..!! সব ধুলোয় অন্ধকার হাইব্রিড, লীগ আর শিবির। সতর্কবার্তা- ভায়া চরিত্র বদলাও, না হলে বদলিয়ে দেওয়া হবে। রাস্তার ছালছাড়া অথর্ব নেড়িকুকুর।"


এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদলের জবি শাখার সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।



সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, ‘দুপুর ২টার দিকে সংঘর্ষ হয়েছিল। এতে দুই-তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন। এখন পরিবেশ শান্ত রয়েছে।’


পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং তারাও অবগত আছেন। দেখা যাক প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়।’