ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, চালকসহ আটক ৪
ছবি: সংগৃহীত
রবিউল মোল্লা, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুর পৌরসভার পাকার মাথা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি গাড়িচালক মো. বাদশা সরদারসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক অন্য তিনজন নারী। ওই বাসা থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় যোগ দিতে শরীয়তপুরে আসেন ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আইয়ুবী। তাঁকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নামিয়ে দেওয়ার পর সরকারি গাড়ি নিয়ে পাকার মাথা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় যান চালক বাদশা সরদার। বাসাটিতে তিন নারী ভাড়া থাকতেন। চালকের সেখানে যাতায়াত নিয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন বাসায় গিয়ে তাঁদের আটক করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত মাসে ওই তিন নারী বাসাটি ভাড়া নেওয়ার পর থেকে সেখানে বিভিন্ন পুরুষের যাতায়াত ছিল। বাদশা সরদারকেও বিভিন্ন সময় ওই বাসায় যেতে দেখা গেছে বলে দাবি তাঁদের।
বাসাটির কেয়ারটেকার জানান, বাদশা সরদার ওই তিন নারীকে নিজের খালাতো বোন পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া নিতে সহায়তা করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করতেন।
তবে আটক নারীদের একজন দাবি করেন, বাদশা তাঁর ভাই এবং সেই সম্পর্কেই বাসায় আসতেন। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন বাসায় ঢুকে তাঁদের কাছে টাকা চান। টাকা না দেওয়ায় তাঁরা ঘরের ভেতরে মাদক সেবনের সরঞ্জাম রেখে পুলিশকে খবর দেন।
অন্যদিকে বাদশা সরদার দাবি করেন, ওই নারীরা তাঁর আত্মীয় নন; তাঁদের সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় ছিল। তাঁরা অনেক দিন ধরে বাসা ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ করছিলেন। রোববার সভার কাজে শরীয়তপুরে এসে ইউএনওকে নামিয়ে দেওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে বাসায় যান তিনি। সেখানে যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন দরজায় কড়া নাড়েন। দরজা খোলার পর তাঁরা বাসাটিতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন। সেখানে কী ঘটছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
পালং মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস শুকুর বলেন, ওই বাসায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের খবর পেয়ে পুলিশ যায়। সেখান থেকে মাদক সেবনের কিছু সরঞ্জামসহ তিন নারী ও একজন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আইয়ুবী জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর দপ্তর থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








