আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী, ফেসবুকে পোস্ট এসিল্যান্ডের

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী, ফেসবুকে পোস্ট এসিল্যান্ডের

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্লী রানী মোদককে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান শান্ত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ইউএনওর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, এসিল্যান্ডের অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছে।


এ ঘটনার পর আরিফুর রহমান শান্তকে তাঁর বাসা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি পরিবারের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে জামালগঞ্জে যোগদান করেন এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরে বসবাস করছিলেন।


এ বিষয়ে ইউএনও শিল্লী রানী মোদকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসিল্যান্ডের মানসিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন।


ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজনে এসিল্যান্ডের স্ত্রীও তাঁদের বাসায় এসেছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার পরই এসিল্যান্ডের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই পোস্ট দেওয়া হয়।


শিল্লী রানী মোদক আরও দাবি করেন, পরে পুলিশসহ কয়েকজন এসিল্যান্ডের বাসায় গিয়ে তাঁকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখেন। এরপর তাঁর স্ত্রী তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে তিনি পরিবারের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় আছেন।


ইউএনওর অভিযোগ, ওই রাতে এসিল্যান্ড একজন আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ ছাড়া রাস্তায় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান স্টার নিউজকে বলেন, পরিবারের কাছ থেকে তাঁরা জেনেছেন, এসিল্যান্ড আগে থেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।


তিনি জানান, কয়েক দিন আগে জামালগঞ্জে একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। শিশুটির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন এসিল্যান্ড। ওই ঘটনার পর থেকে তাঁর শারীরিক বা মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি পরিবারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।


তবে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং ইউএনওর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।