‘কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করলে তাকে চুমু দিবো, এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না’ রাশেদ খান

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
‘কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করলে তাকে চুমু দিবো, এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না’ রাশেদ খান

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, কেউ তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করলে তিনি নীরব থেকে তা মেনে নেওয়ার মানুষ নন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।


রাশেদ খান বলেন, সোমবার এটিএন নিউজের একটি টকশোতে তিনি পুরো সময় গঠনমূলক বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সারোয়ার তুষার তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন। তুষার তাকে গণমাধ্যমের সামনে সক্রিয় এবং পুলিশের সামনে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ করেন বলে জানান রাশেদ।


নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে রাশেদ বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় তিনি কারাভোগ করেছেন এবং ১৫ দিন রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অথচ ওই আলোচনায় তার কারাবাসকে চুরির মামলায় জেলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুগপৎ আন্দোলনেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।


রাশেদ আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় ছাত্র না হওয়ায় তিনি সরাসরি নেতৃত্বে না থাকলেও আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ে ভূমিকা রেখেছেন। তার মাধ্যমে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনের সঙ্গে জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির বৈঠক হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।


তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ জুলাই তিনি আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেন এবং আন্দোলনের সমন্বয়কদের লজিস্টিক সহায়তাও দেন। ১৯ জুলাই নুরুল হক নুর গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বাসায় দুই দফা অভিযান চালানো হয় বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।


রাশেদ বলেন, এরপর বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন সফল করার রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তিনি কাজ করেন। আন্দোলন যখন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন ৩১ জুলাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও আইনজীবীদের হাইকোর্টের সামনে কর্মসূচির সিদ্ধান্তও তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ৩ আগস্ট গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তিনি আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন বলে জানান।


টকশোতে সারোয়ার তুষার প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তাদের নির্বাসনে থেকে আন্দোলনে কাজ করার কথা বলেন বলে জানান রাশেদ। পরে তুষারের কাছে তিনি জানতে চান, সে সময় তিনি কোথায় ছিলেন। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের একপর্যায়ে তুষার তাকে ‘বেয়াদব’ ও ‘মিথ্যুক’ বলেন এবং এর জবাবেই তিনি পাল্টা বক্তব্য দেন বলে দাবি করেন রাশেদ।


নিজের পোস্টে ইমতিয়াজ মির্জা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৯ দফার ঘোষক আব্দুল কাদেরের বক্তব্যও তুলে ধরেন রাশেদ। তাদের বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনে সারোয়ার তুষারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান বলেন, তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হলে তিনি চুপ করে থাকার মতো ‘সুশীল’ ব্যক্তি নন। নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে ভণ্ডামির রাজনীতি শুরু না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভদ্রতা এক পক্ষ থেকে এলে তার পক্ষ থেকেও আরও বেশি ভদ্রতা থাকবে।



এমকে/বিএম২৪