রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার কার্যকরের দাবিতে কালাইয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার কার্যকরের দাবিতে কালাইয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

রাজধানীর মিরপুরে আট বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর কালাই সাংবাদিক পরিষদ ও আন-নাজাত ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অংশগ্রহণকারীরা কালাই পৌর শহরে জড়ো হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।পুরো এলাকা “বিচার চাই, বিচার চাই",হত্যার বিচার চাই”, “ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই” স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশু রামিসার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নৃশংস ও পৈশাচিক ঘটনা শুধু একটি পরিবার নয়,পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে।তারা বলেন,একটি সভ্য সমাজে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে,যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশু এমন নির্মমতার শিকার না হয়।

শিরট্টি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলি বলেন, আজ দেশের মানুষ তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। একটি শিশু স্কুলে গিয়ে যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সেটি পুরো রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার বিষয়। আমরা চাই, রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

কালাই সাংবাদিক পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মুনছুর রহমান বলেন, একটির পর একটি শিশু হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে সমাজে ভয়াবহ অবক্ষয় নেমে এসেছে। শুধু শোক প্রকাশ নয়, কার্যকর বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে অপরাধ আরও বাড়বে।

কালাই উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মো. তাইফুল ইসলাম ফিতা বলেন, গত কয়েক দিনে দেশে একাধিক শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার দায় কোনোভাবেই এড়ানোর সুযোগ নেই। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনগণ আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে।

কালাই পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলিম বলেন, আজ দেশের প্রতিটি পরিবার আতঙ্কে আছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে দ্রুত বিচার ও দৃশ্যমান শাস্তির বিকল্প নেই।

আন নাজাত ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ বলেন,শিশু ও নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে সমাজে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। আমরা রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

কালাই আহলে হাদিস জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সেলিম রেজা বলেন, “ইসলাম কখনো নারী ও শিশু নির্যাতনকে সমর্থন করে না। যারা এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করে তারা মানবতার শত্রু। তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।”

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত সাত দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত চারটি শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।তারা বলেন, ঘরের বাইরে তো বটেই, এখন অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা নিজ এলাকাতেও নিরাপদ নয়। দ্রুত বিচার ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকের মধ্যে কাজী আব্দুল করিম বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। এতে শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শুধু আসামি গ্রেফতার করলেই হবে না, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।