মক্কার খুতবায় হাজীদের প্রতি তাকওয়া, ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান
ইসলাম ডেস্ক:
আরাফার দিন ও জিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্ব তুলে ধরলেন মসজিদুল হারামের খতিব
পবিত্র মক্কার Masjid al-Haram-এ আজ জুমার খুতবায় মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সম্মানিত খতিব Dr. Maher bin Hamad Al Muaiqly। “পার্থিব জীবনের শ্রেষ্ঠ দিনগুলো” শীর্ষক খুতবায় তিনি জিলহজের প্রথম দশকের ফজিলত, হজের প্রকৃত উদ্দেশ্য, তাওহিদের গুরুত্ব এবং হাজীদের সেবায় নিয়োজিতদের প্রশংসা করেন।
খতিব বলেন, জিলহজের প্রথম দশ দিন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই দিনগুলোতে নেক আমলের সওয়াব অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি মুসলমানদের তাকওয়া অবলম্বন, বেশি বেশি ইবাদত ও নেক কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
খুতবায় আরাফার দিনের বিশেষ মর্যাদার কথাও তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, এদিন আল্লাহ তাআলা অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং আরাফার রোজা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হয়।
ইমাম মাহের আল-মুয়াইক্লি হজের মূল শিক্ষা হিসেবে তাওহিদ তথা এক আল্লাহর ইবাদতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, হজের প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতা আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর একত্ববাদের বহিঃপ্রকাশ। একইসঙ্গে তিনি শিরক থেকে বেঁচে থাকার কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন এবং বলেন, শিরক এমন পাপ যা মানুষের সব আমল ধ্বংস করে দেয়।
খুতবায় মুসলিম ঐক্যের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্ণ, গোত্র বা জাতিগত বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে তাকওয়াকেই মর্যাদার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন খতিব।
দ্বিতীয় খুতবায় হাজীদের সেবায় নিয়োজিত Saudi Arabia সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। খতিব বলেন, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও ইবাদতের পরিবেশ নিশ্চিত করতে যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে তা প্রশংসনীয়।
তিনি অনুমতিপত্র ছাড়া হজ পালনের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন। তার ভাষায়, নিয়ম ভঙ্গের মাধ্যমে অন্য হাজীদের কষ্ট দেওয়া ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। “নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অন্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে না”—রাসূল (সা.)-এর এই হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি সবাইকে আইন ও শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানান।
খুতবার শেষাংশে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও ঐক্যের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। পাশাপাশি Palestine-এর নিপীড়িত মুসলমানদের জন্য সাহায্য ও Al-Aqsa Mosque রক্ষার আহ্বান জানানো হয়।









