রোহিঙ্গা সংকটের সূচনা মিয়ানমারে, সমাধানও মিয়ানমারেই: তারেক রহমান

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
রোহিঙ্গা সংকটের সূচনা মিয়ানমারে, সমাধানও মিয়ানমারেই: তারেক রহমান

সূত্রঃ বিডি মেইল

নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি


রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।


বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে; ইউরোপীয় ইউনিয়ন এতে সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে অনির্দিষ্টকাল এ দায়িত্ব বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।


তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর রোহিঙ্গা সংকট আরও গভীর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাও কমে আসছে।


সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হলো—


১. স্পষ্ট রোডম্যাপ: দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি।


২. সহিংসতা বন্ধ ও অধিকার নিশ্চিত: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং নিজ ভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


৩. পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা: রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও স্থিতিশীল মানবিক তহবিল নিশ্চিত করা।


৪. ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি: আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) চলমান জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় সমর্থন এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা।


৫. আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন: মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র ও ডিজিটাল প্রতারণাসহ আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।


প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে তিনি জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহের সঙ্গেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করেন। এসব বৈঠকে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটি হবে তাঁর প্রথম ভাষণ।