বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে ভারত, আশা সরকারের
সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ চুক্তির আওতায় ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিচারকদের নিয়ে আয়োজিত ‘জুডিশিয়াল ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
এ সময় আগামী ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলার রায়ে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে বলেও জানান তিনি।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা বিরোধিতা করেছে এবং গণহত্যায় জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে যেমন সোচ্চার থাকতে হবে, তেমনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধেও কথা বলতে হবে।
একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামে শহীদ জাফর, জয়নায়াল, দীপালী সাহা, কাঞ্চন, রাফুন, বসুনিয়া, জিহাদ ও ডাক্তার মিলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আনাসসহ ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে জানান।
এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ নীরব ভূমিকা পালন করছেন। জুলাইয়ে এত মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার পরও তাঁদের বিষয়ে ওই অংশের কোনো বক্তব্য নেই।
বিচার বিভাগের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির বিষয়েও কথা বলা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বিচার বিভাগের সততা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে, সেখানে সমস্যাটিকে শুধু আর্থিক দুর্নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে। তবে বিচার বিভাগের সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি। তাঁর মতে, আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও দেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর হয়েছে।
বিচারকদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, হাতে গোনা কয়েকজন বিচারক এ ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত থাকতে পারেন। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে সরকার ও প্রধান বিচারপতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের চেষ্টা করছেন।
একই সঙ্গে বিচারকদের পেশাগত পরিশ্রম, সততা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো সামনে আনার ওপর গুরুত্ব দেন আইনমন্ত্রী।
এমকে/বিএম২৪









