বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব মুফতি রুহুল আমিনের ৬ মাসের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব মুফতি রুহুল আমিনের ৬ মাসের কারাদণ্ড

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


পৈতৃক সম্পত্তি দখলের মামলায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিনের ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন আদালত।


বুধবার (১৯ আগস্ট) গোপালগঞ্জ জেলা পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শাহনাজ নাসরীন খান তার আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখেন। একই সঙ্গে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি মুফতি রুহুল আমিনের বড় ভাই মৃত হাফেজ মাওলানা ওমরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম টুঙ্গিপাড়া আমলি আদালতে একটি নালিশি আবেদন করেন। এতে ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার আইন-এর ৪(১)(ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।


বাদীর অভিযোগ, টুঙ্গিপাড়া থানার ২৩ নম্বর শ্রীরামকান্দি মৌজার ২৮৬২ নম্বর খতিয়ানের বিআরএস ৪৯৭৯ নম্বর দাগে তার স্বামীর ১৭ শতাংশ এবং মুফতি রুহুল আমিনের ১৭ শতাংশ জমি রয়েছে। তবে রুহুল আমিন পুরো জমি দখলে নিয়ে ইট, বালু ও সিমেন্টের দেয়াল নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন বাদী।


মামলাটিতে ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আলী তালহা মুফতি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে রায় দেন। তাকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।


পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল করেন রুহুল আমিন। একই সঙ্গে বাদীপক্ষও সাজা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে আপিল করে। বুধবার শুনানি শেষে আদালত উভয় আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখেন।


মামলার বাদীপক্ষের ছোট জামাতা মুফতি ইসমাইল বলেন, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে এ মামলা ছাড়াও আরও দুটি উচ্ছেদ মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী এখন সাজা কার্যকরের বিষয়টি দেখতে চান তারা।


অন্যদিকে, রুহুল আমিনের ভাগ্নে মোর্তাজা হাসান বলেন, ওই জমিতে তাদেরও অংশ রয়েছে। তার অভিযোগ, রুহুল আমিন জোর করে পুরো জমি নিজের দখলে নিয়েছেন।


স্থানীয় মাওলানা জাহিদ আল মাহমুদও রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ তুলে বিষয়টির প্রতিকার দাবি করেন।


মামলার রায় নিয়ে মুফতি রুহুল আমিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


উল্লেখ্য, মুফতি রুহুল আমিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন বক্তব্য নিয়েও অতীতে সমালোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি কিছু সময় আত্মগোপনে ছিলেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।