ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতি, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতি, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

সূত্রঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক মাসের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর অঞ্চলটিতে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।


বুধবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফের বক্তব্যেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরাক সফররত গালিবাফ বলেছেন, নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ দ্রুত কমে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রও অঞ্চলটি থেকে সম্মানজনকভাবে বের হওয়ার পথ খুঁজছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ছয় মাসের যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে কবে শেষ হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া ৬০ দিনের প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হয়েছে।


মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন জর্ডান থেকে ওমান পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ মাইল বিস্তৃত এলাকায় প্রায় ২০টি সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনায় সাধারণত প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। এ ছাড়া কুয়েতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ রয়েছে।


ঘাঁটিগুলো নিয়ে নতুন ভাবনা


দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন করছে পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক দপ্তর। যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তেও এই মূল্যায়নের প্রভাব পড়তে পারে। জয়েন্ট স্টাফ ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।


যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবায় ইরানের হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ছাড়া দুই শতাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ধরন ও পরিমাণ পুনর্বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।


আলোচনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তা


ইরান যুদ্ধের অবসান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও পাওয়া যাচ্ছে।


মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তবে এর আগের দিন ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার জানিয়েছিলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় জোরালো।


ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরানের শর্তে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র এখন মরিয়া হয়ে পড়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবেরও জানিয়েছেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী। তবে আলোচনাকে আত্মসমর্পণের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।


অর্থনীতিতেও চাপ


যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ থাকবে।


পরে ইউএইর প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।


সব মিলিয়ে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নতুন কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ এবং অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতির পরিমাণ এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।