এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রের এলসির জন্য ৩২ লাখ ডলার ছাড়ের অনুমতি

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১১ পিএম
এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রের এলসির জন্য ৩২ লাখ ডলার ছাড়ের অনুমতি

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিপরীতে প্রায় ৩২ লাখ ডলার ছাড়ের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত রোববার প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন এলসি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।


বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নির্দেশনাটি দেশের সব ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলার ছাড় এবং নতুন ঋণপত্র খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংকের এই ঋণ ছাড় ও এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক(৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না।


তবে এ সুবিধার সঙ্গে বিশেষ শর্তও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই ঋণসুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে রূপালী ব্যাংকও এ বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।


বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এসএস পাওয়ার-১-এর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে চালু রয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। কাঁচামালের সংকট দেখা দিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি ঋণখেলাপি হলেও এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।


কর্মকর্তারা আরও জানান, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সচল রাখার স্বার্থে এর আগেও বিভিন্ন ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ বিবেচনায় এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই বিবেচনায় এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডকেও এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।


চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা এলাকায় এস আলম গ্রুপ ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডে এস আলম গ্রুপের মালিকানা ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক চীনের সেপকো থ্রি ও এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ও বেনামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর বড় একটি অংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, খেলাপি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাংক থেকে নতুন ঋণসুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ নেই। তবে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে সেই বিধিনিষেধের বাইরে গিয়ে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।