২ দিন আটকে রেখে সরকারি কর্মকর্তার মেয়েকে ধর্ষণ

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
২ দিন আটকে রেখে সরকারি কর্মকর্তার মেয়েকে ধর্ষণ

সূত্রঃ ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক



সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। সেই প্রেমই যেন কাল হলো কিশোরীর জন্য। টানা দুই দিন তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক তরুণের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত একটি অনলাইন ফুড অর্ডারের সূত্র ধরে পুলিশ অবস্থান শনাক্ত করে কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করে।


ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ২০ বছর বয়সী অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর উদ্ধার হওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোরী দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও তিনি এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার মেয়ে।


পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয়েছিল ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে। পরে তারা স্ন্যাপচ্যাট ও কয়েকটি অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।


ঘটনার সূত্রপাত রোববার (২ আগস্ট), যেদিন ফ্রেন্ডশিপ ডে উদযাপিত হচ্ছিল। ওই দিন কিশোরী তার মা-বাবাকে জানান, সে এক বন্ধুর সঙ্গে শপিংমলে যাচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তারা জানতে পারেন, কিশোরী তার কোনো বন্ধুর সঙ্গেই দেখা করেননি। এরপর পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে।


অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কিশোরীর কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে। সেখান থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহের কেন্দ্রে চলে আসে ওই তরুণ।


যেভাবে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ


তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তের নাম নির্ভয় ওরফে আকাশ মাধব পাখরে। তিনি মহারাষ্ট্রের থানে জেলার বাসিন্দা। তিনি ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন ও নাগপুরে একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে থাকতেন। তার মা একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক। তরুণের এক আত্মীয় জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তা- এমন খবর প্রকাশিত হলেও পুলিশ সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।


এরপর পুলিশ অভিযুক্তের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। থানে পুলিশের একটি দল অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে ও মাকে ছেলের কাছে ফোন করতে বলে।


মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় অভিযুক্ত বুঝতে পারেন, সেখানে একজন পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত রয়েছেন। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ও কিশোরীকে চাপ দিয়ে তার বাবা-মায়ের কাছে ফোন করে সব ঠিক আছে বলে জানাতে বাধ্য করেন। ওই ফোনকল থেকেই পুলিশ তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।


এর কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত অনলাইনে খাবারের অর্ডার দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুলিশ খাবার সরবরাহকারী কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় যায় ও ঠিকানা নিশ্চিত করে। এরপর নাগপুর পুলিশ সেখানে ফাঁদ পেতে অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে।



বিছানায় বাঁধা, শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন


পুলিশ যখন কক্ষটির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে, তখন তারা দেখতে পায় কিশোরী আহত, বিবস্ত্র ও বিছানার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় রয়েছেন। এ সময় অভিযুক্তের হাতে একটি ধারালো ছুরি ছিল।


পুলিশ জানায়, কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। তার একটি কব্জিও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।



ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, তারা যদি আরও কিছু সময় দেরি করত, তাহলে অভিযুক্ত কিশোরীকে হত্যা করে ফেলতো।


নাগপুর পুলিশের জোন-৪-এর উপ-কমিশনার রশ্মিতা রাও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানালা দিয়ে অত্যন্ত ভয়াবহ একটি দৃশ্য দেখতে পায়। ভুক্তভোগীকে দুই দিন ধরে যৌন ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। তার হাত বিচ্ছিন্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত তখন তাকে হত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।


অশ্লীল ছবি তুলে ভাইরালের হুমকি


তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত কিশোরীর অশ্লীল ছবি তুলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। একই সঙ্গে তার পুরো পরিবারকে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।


অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (পকসো), ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যা চেষ্টাসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।


পুলিশ এখন তদন্ত করে দেখছে, এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত ছিল কি না এবং অভিযুক্ত একই ধরনের যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার অন্য কোনো তরুণীকে করেছে কি না।



ভুক্তভোগীর ওপর নির্যাতনে ব্যবহৃত ছুরি এবং অন্যান্য আলামতও জব্দ করেছে পুলিশ।


কী দাবি অভিযুক্তের আইনজীবীর?


তবে অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ও কিশোরীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার ভাষ্য, কিশোরী নিজেই নিজের হাত কেটেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, কিশোরী স্বেচ্ছায় অভিযুক্তের আস্তানায় গিয়েছিলেন ও এটি কোনো অপহরণের ঘটনা নয়।


বর্তমানে অভিযুক্ত তরুণ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হেফাজতে থেকেও তিনি আরামদায়ক বিছানা ও মশা তাড়ানোর ওষুধ চেয়ে দাবি জানাচ্ছেন।


অন্যদিকে, ভয়াবহ মানসিক আঘাতের কারণে উদ্ধার হওয়া কিশোরী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে মানসিক কাউন্সেলিংও দেওয়া হচ্ছে।



সূত্র: এনডিটিভি



এমকে/বিএম২৪