৪৯২ মণ্ডপে পূজার আয়োজন, রাজশাহীতে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪৯ পিএম
৪৯২ মণ্ডপে পূজার আয়োজন, রাজশাহীতে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, নিরাপত্তা জোরদার

ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। দেবীর আগমনী বার্তায় ভক্তকুলে ইতোমধ্যেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

কারিগরদের রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমা পাচ্ছে জীবন্ত রূপ। নগরের ধর্মসভা মন্দিরের গণেশ পাল, শেখেরচকের কার্তিক পাল, হড়গ্রামের অনন্ত পাল, রনজিত পাল, ষষ্ঠীতলার অরুণ কুমার পাল এবং রেশমপট্টির সুশীল পালের মতো শিল্পীরা দিনরাত প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত। জেলার প্রায় ৪০টি পাল পরিবারও নিজেদের আঙিনায় প্রতিমা তৈরি করছেন।

মৃৎশিল্পী কার্তিক চন্দ্র পাল জানান, বর্তমানে প্রতিমার রং করার কাজ চলছে। আজ, কাল ও পরশুর মধ্যে সব প্রতিমা হস্তান্তর করতে হবে। এ বছর তিনি মোট ২৮টি প্রতিমা তৈরি করছেন, এর মধ্যে তিনটি শহরের বাইরে এবং ২৫টি রাজশাহী নগরের বিভিন্ন মণ্ডপে যাবে।

প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সাজসজ্জায়ও ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা। নগরের বিভিন্ন স্থানে শেষ মুহূর্তের প্যান্ডেল তৈরির কাজও চলছে জোরেশোরে। রাজশাহী মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি সুব্রত রায় বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের জন্য প্রতিটি মণ্ডপে ১০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত থাকবে।

এবার রাজশাহী মহানগরীতে ৮০টি এবং জেলায় ৪১২টি মিলে মোট ৪৯২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। অধিকাংশ মণ্ডপ এখন প্রস্তুত, শিগগিরই প্রতিমা শোভা পাবে।

উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, আনসার এবং সাদা পোশাকের গোয়েন্দারা প্রতিমা নির্মাণ কেন্দ্র ও মণ্ডপগুলোতে নজরদারি চালাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার রাজশাহী নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজ। তিনি জানান, দুর্গাপূজা নিয়ে কোনো ধরনের বিশেষ হুমকি নেই। তবুও নিরাপত্তাকে তিনটি ধাপে ভাগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠী পূজা থেকে মণ্ডপ ও রাস্তায় বিশেষ নজরদারি থাকবে।

মাসুদ পারভেজ আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন। গতবারও মাদরাসার ছাত্ররা মণ্ডপ পাহারায় অংশ নিয়েছিল, এবারে একইভাবে সবার সহযোগিতা থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।