রক্তের বন্ধন থেকে আনন্দের মিলন: সোনারগাঁওয়ে বাঁধন ঢাকা কলেজ ইউনিটের বনভোজন

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
রক্তের বন্ধন থেকে আনন্দের মিলন: সোনারগাঁওয়ে বাঁধন ঢাকা কলেজ ইউনিটের বনভোজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠন বাঁধন-এর ঢাকা কলেজ ইউনিট এর উদ্যোগে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বার্ষিক বনভোজন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাঁধন, ঢাকা কলেজ ইউনিটের সদস্য, কর্মী, শিক্ষক ও উপদেষ্টাগণ অংশগ্রহণ করে দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলেন।


১৭ই এপ্রিল(শুক্রবার) বনভোজন উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীরা সকালে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে একত্রিত হয়ে ঐতিহাসিক সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে পৌঁছে সবাই জাদুঘরের বিভিন্ন নিদর্শন, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হন। প্রাচীন বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির নানা দিক ঘুরে দেখে শিক্ষার্থীরা যেমন জ্ঞানার্জনের সুযোগ পান, তেমনি উপভোগ করেন এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।

এরপর দলটি ঘুরে দেখেন ঐতিহ্যবাহী পানাম সিটি—যা একসময় বাংলার প্রাচীন বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। শতবর্ষী স্থাপত্য, সরু রাস্তা ও ঐতিহাসিক ভবনগুলো উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন গ্রুপভিত্তিক ছবি তোলা, ঘোরাঘুরি ও আড্ডায় মেতে ওঠেন।

দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল খেলাধুলা, মজার প্রতিযোগিতা, র‍্যাফেল ড্র ও কুইজ প্রতিযোগিতা।অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, হাসি-আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো দিনটি।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত  শিক্ষক উপদেষ্টাগণ তাদের বক্তব্যে বলেন, “বাঁধন শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি মানবতার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। রক্তদানের মতো মহৎ কাজে যুক্ত থাকার পাশাপাশি এ ধরনের বনভোজন সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, সহমর্মিতা ও টিমওয়ার্ক গড়ে তোলে।”

তারা আরও বলেন, “একজন স্বেচ্ছাসেবকের মানসিক বিকাশের জন্য এমন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সদস্যরা একে অপরকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পায়, যা ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে।”


ইউনিটের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, “আমরা শুধু রক্তদান কার্যক্রম পরিচালনা করি না, বরং একটি পরিবার হিসেবে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। এই বনভোজন আমাদের সেই পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।”

বক্তারা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং রক্তদানের মতো মানবিক কার্যক্রমে নতুনদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।


দিন শেষে অংশগ্রহণকারীরা আনন্দঘন মুহূর্তের স্মৃতি বুকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সবাই এমন আয়োজন নিয়মিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং মানবসেবার এই পথচলায় একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।