পানির অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিট বন্ধ, কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১০ এএম
পানির অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিট বন্ধ, কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

চাই সুই উ মারমা, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে আসায় পানির অভাবে তিনটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। দুটি ইউনিট দিয়ে প্রতিটিতে ৩০ ও ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে এসেছে।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সূত্র থেকে জানা যায়, সব ইউনিট চালু রাখার সক্ষমতা থাকলেও পানির ঘাটতির কারণে তিনটি ইউনিট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ১নং ইউনিট থেকে ৩০ ও ৫ নং ইউনিট থেকে ৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। অথচ ২৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্র থেকে সব ইউনিট সচল থাকলে সর্বোচ্চ ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এভাবে যদি আর কয়েকদিন বৃষ্টি না হয় তাহলে আরও একটি ইউনিট বন্ধ করে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর থাকার কথা ৮৫.৮০ মিন সি লেভেল (এমএসএল), কিন্তু তা নেমে এসেছে ৭৯ এমএসএলে। ফলে পানির স্বল্পতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পানির স্তর ৬৮ এমএসএলে নেমে গেলে তা বিপজ্জনক ধরা হয় এবং সে অবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।

অন্যদিকে, কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, হ্রদনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রাও চাপে পড়েছে। জেলার সদরের সাথে বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি— এই পাঁচ উপজেলার নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।