একই জমি ৩ জনের নামে খারিজ,বিপাকে ভুক্তভোগী
সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে নামজারি-জমাভাগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।আর্থিক সুবিধা নিয়ে পরিমানের চেয়ে জমি বেশি দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির নামে নামজারি(খারিজ) করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ওই ইউনিয়নের খোলাপাড়া মৌজায় আর এস ২৮৪ দাগে ৭৯শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমি থেকে গাড়াদিয়া গ্রামের আনোয়ারা বেগম ও মনোয়ারা খাতুনকে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি নামজারি করে দেন নায়েব । পরবর্তীতে ১৩৪৪০৫৫৩ নং আবেদনের প্রেক্ষিতে বড় বাকা গ্রামের আওলাদ হোসেনকে পুনরায় ৭৯ শতাংশ জমি নামজারি করে দেয়া হয়। একই দাগ থেকে আটকুড়িয়া গ্রামের মো. হিম্মত আলীকেও ১৩৭৬৭৬৪৯ নং আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯ শতাংশ জমি নামজারি করে দেয়া হয়।
কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২৮৪ নং দাগে মোট জমির পরিমাণ ৭৯ শতাংশ। অথচ পৃথক তিনটি আবেদনে ১০৮.৫০ শতাংশ জমি নামজারি জমাভাগ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে, খারিজকৃত ১৯ শতাংশ জমির দাবীদার হিম্মত আলি খাজনার দাখিলা কাটতে গেলে এ ঘটনা প্রকাশ পায়। হিম্মত আলীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলধারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে এ ঘটনার সত্যতা মেলে। ওই অফিসের সংরক্ষণে থাকা ২ নং রেজিস্টার বহিতে দেখা যায় আনোয়ারা বেগম ও মনোয়ারা খাতুন সাড়ে ১০ শতাংশ জমির জোত খুলেছেন। অন্যদিকে, আওলাদ হোসেন ৭৯ শতাংশ নামজারি করে নিলেও জোত খুলেছেন সাড়ে ৬৮ শতাংশ জমির। অপরদিকে, হিম্মত আলীর জমির নামজারিতে কোনো জোত খোলা হয়নি। তিনি খাজনার দাখিলা কাটতে গিয়ে পড়েছেন বিপাকে। দিনের পর দিন উপজেলা ভূমি অফিসে ধর্ণা দিয়েও পাচ্ছেন না কোনো সুরাহা।
ভূক্তভোগী মো.হিম্মত আলি জানান,ওই জমি ক্রয় এবং পৈত্রিকসূত্রে আমি ৩৮ শতাংশের মালিক। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ বিক্রি করলেও বাকি ১৯ শতাংশ আমার নামে নামজারি-জমাভাগ করে নেই । যার অনলাইনের কপিও আমার কাছে রয়েছে। তারপরও অজ্ঞাত কারণে ভূমি অফিস থেকে আমাকে দাখিলা কেটে দেয়া হচ্ছে না।
বলধারা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আগে যারা নামজারি করেছেন তারা জোত খুলতে বিলম্ব করায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বাড়তি সুযোগ সুবিধা নেয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.হাবেল উদ্দিন বলেন, এরকম তো হওয়ার কথা না। এটা রেজিস্টার চেক করে দেখা ছাড়া কিছু বলা যাবে না।








