সালমান শাহর মৃত্যুর মামলা ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ আদালতের

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৫ এএম
সালমান শাহর মৃত্যুর মামলা ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ আদালতের

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ–এর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটি অবশেষে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফৈরদৌস ইবনে হকের আদালত এ আদেশ দেন।

এদিন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত এই নির্দেশ দেন।

রমনা থানাকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর করা অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে নতুন করে হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত করতে হবে।

এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রমনা মডেল থানা পুলিশকে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান বলেন,

> “সালমান শাহর মৃত্যুর পর তার বাবা অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। পরে তিনি হত্যার অভিযোগ তুললেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। অথচ রিজভী নামে এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে, যেখানে সালমানকে হত্যার বর্ণনা রয়েছে। এত কিছু থাকার পরও মামলাটি বছরের পর বছর অগ্রগতি পায়নি।”

দীর্ঘ ২৯ বছরের আইনি লড়াই

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয় সালমান শাহর। তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক দাবি করেন, এটি আত্মহত্যা। কিন্তু সালমানের পরিবার শুরু থেকেই একে হত্যা বলে দাবি করে আসছে।

পরের বছর (১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই) তার বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

তবে ১৯৯৭ সালের ২৫ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানায়, এটি আত্মহত্যা। আদালতও সেই মতামত গ্রহণ করেন।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত থেকে পিবিআই পর্যন্ত

২০০৩ সালে মামলার রিভিশন আবেদনের পর বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক প্রতিবেদন জমা দেন, যেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ বলা হয়।

এরপর সালমানের মা নীলা চৌধুরী ২০১৫ সালে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। ফলে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।

২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানায়, এটি আত্মহত্যা।

তবে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।

বাদীপক্ষ সেই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করে জানায়,

> “একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে হত্যা মামলাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। সত্য উদঘাটনের জন্য নতুন করে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।”