ফুসফুস ক্যান্সার সনাক্তকরণে জাবি অধ্যাপকের গবেষণা প্রবন্ধ ‘দ্য ন্যাচার’-এ প্রকাশিত

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৫৫ পিএম
ফুসফুস ক্যান্সার সনাক্তকরণে জাবি অধ্যাপকের গবেষণা প্রবন্ধ ‘দ্য ন্যাচার’-এ প্রকাশিত

রেদওয়ান সাগর, জাবি প্রতিনিধি :

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কবির উদ্দিন সিকদারের নেতৃত্বে পরিচালিত ফুসফুস ক্যান্সার সনাক্তকরণ বিষয়ক এক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিজ্ঞান জার্নাল ‘দ্য ন্যাচার'-এর সাইন্টিফিক রিপোর্টস-এ গবেষণা প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়।

‘অ্যালুমিনিয়াম-ডেরিভেট ন্যানোটিউবস ফর লাঞ্চ ক্যান্সার ডিটেকশন: এ ডিএফটি ইনকুইজিশন' শীর্ষক এ গবেষণা প্রবন্ধে গবেষকদলে ছিলেন অলি উর রহমান, ডি. এম. সাদুজ্জামান, সৈয়দ মেহেদী হাসান ও মুজাক্কির আমিন। গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স রিসার্চ' দলের অধীনে।

গবেষণায় দেখা যায়, ‘ফুসফুস ক্যান্সার একটি মরণব্যাধি, যা সাধারণত দেরিতে (স্টেজ ৩ বা ৪ পর্যায়ে) শনাক্ত হয়। তবে রোগটি শরীরে বাসা বাঁধার প্রাথমিক পর্যায়েই ফুসফুস ও প্রশ্বাসে কিছু জৈব যৌগের উপস্থিতি দেখা যায়, যেগুলোর ঘনত্ব খুবই কম হওয়ায় তা শনাক্ত করা কঠিন। গবেষক দল জানিয়েছেন, এসব যৌগ শনাক্তে উচ্চসংবেদনশীল পদার্থ দ্বারা নির্মিত সেন্সর বা যন্ত্র ব্যবহারে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুস ক্যান্সার নির্ণয় সম্ভব হবে। 

এছাড়া, গবেষণায় অতি উচ্চসংবেদনশীল ও রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল দুই ধরনের ন্যানোটিউব অ্যালুমিনিয়াম নাইট্রাইড (এআইএন) ও অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড (এআইপি) এর সঙ্গে তিনটি ভিন্ন জৈব যৌগের পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে দেখা যায়, অ্যালুমিনিয়াম নাইট্রাইড ন্যানোটিউব ফুসফুস ক্যান্সার সনাক্তকরণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, কারণ এটি উচ্চসংবেদনশীল, পুনঃব্যবহারযোগ্য, পরিবেশবান্ধব এবং রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল।’

গবেষণার পরিচালক অধ্যাপক ড. কবির উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘এই গবেষণা ফুসফুস ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তে নতুন দিক উন্মোচন করবে। আশা করছি, ভবিষ্যতে এই ন্যানোম্যাটেরিয়াল ভিত্তিক বায়োসেন্সর  প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজ ও দ্রুত সময়ে ক্যান্সার নির্ণয় এবং তা নিরাময় করা সম্ভব হবে।’