সাবেক স্বামীর একটি মেসেজই কি কেড়ে নিল ১৮ বছরের তরুণীর প্রাণ?

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
সাবেক স্বামীর একটি মেসেজই কি কেড়ে নিল ১৮ বছরের তরুণীর প্রাণ?

মো: মিজানুর রহমান সুমন,  বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিজ ঘর থেকে সামিয়া তাহসিন (১৮) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাবেক স্বামীর পাঠানো একটি মোবাইল মেসেজকে কেন্দ্র করে বর্তমান স্বামীর সাথে অভিমানের জেরে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় অভিরামপুর গ্রামের 'সুজায়েত উল্যা ভূইয়া বাড়িতে' এই ঘটনা ঘটে। নিহত সামিয়া চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার সাহের আলী এলাকার নুর নবীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বেগমগঞ্জের বড় অভিরামপুর এলাকার মো. ইয়াছিন ভূঁইয়ার (২৬) সাথে সামিয়ার বিয়ে হয়। তবে এটি ছিল সামিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকেই পূর্বের স্বামীর সাথে যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে এই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই মৃদু মনমালিন্য ও আলোচনা হতো।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে সামিয়ার মোবাইল ফোনে তার সাবেক স্বামীর একটি বার্তা (মেসেজ) আসে। বিষয়টি বর্তমান স্বামী ইয়াছিনের নজরে এলে তিনি সামিয়াকে সাবেক স্বামীর সাথে আর যোগাযোগ না রাখার জন্য অনুরোধ করেন। এরপর ইয়াছিন টেলিভিশন বা মাঠে খেলা দেখার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে যান।

এর কিছুক্ষণ পর ইয়াছিনের মা সাজেদা বেগম পুত্রবধূর ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি চিৎকার করলে পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় সামিয়াকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়।

সামিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুল রহমান জানান:

"ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"