চবিতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০৩ পিএম
চবিতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:
খুনি হাসিনার ফাঁসির দাবি—অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ২ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি চাকসু ভবন থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনার, কাটা পাহাড় রোড প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন চাকসু দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দিপা, সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলাম, সহ-সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ আহনাফ, নির্বাহী সদস্য সালমান ফারসি এবং চাকসুর অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। এছাড়া বিভিন্ন হল সংসদের প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো দেশে আবারও জনদুর্ভোগ ও সহিংসতা তৈরি করে, এবং ক্যাম্পাসগুলো অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই ফ্যাসিবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ছাত্রদের ফোরাম কর্তৃক আজকে বিক্ষোভ কর্মসূচি করা হরছে। আমরা চাই, খুনি হাসিনার ফাসির রায় দ্রুত কার্যকর হোক এবং গণহত্যার দায়ীদের বিচার সম্পন্ন হোক।”
তিনি আরও বলেন, “আইনের শাসনের মাধ্যমে যারা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, সেই সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। জনগণের রক্তের বিচার হবে।

আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, “গত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশজুড়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের নিপীড়ন চলেছে। ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পতন ঘটলে,প্রত্যাশা করেছিলাম ফ্যাসিবাদী শক্তি আর কখনো উত্থান হবে না। 
 তাদের দোসররা এখন আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্মের কোনো সুযোগ নেই। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।”
ইন্টেরিম থেকে শুরু করে,বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ,এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যেও সুশীলতার ছোঁয়া দেখতে পাওয়া যায়।
এই সুশীলতা না ছাড়তে পারলে তাদের গদি ছাড়তে হবে"।

বিক্ষোভ শেষে চাকসু নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দেন—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেকোনো প্রকার অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা বা ফ্যাসিবাদী তৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
এছাড়া বিক্ষোভ সমাবেশে খুনি হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকরসহ ফ্যাসিবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।