গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৪৪ এএম
গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

রিপোর্টে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, আগামী রোববার (১২ অক্টোবর) মিশরে অনুষ্ঠিতব্য গাজা শান্তি চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই নতুন চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে একটি “চিরস্থায়ী শান্তির ভিত্তি” তৈরি করবে।

ট্রাম্প আরও জানান, ইসরাইলি পার্লামেন্টের (নেসেট) স্পিকার আমির ওহানা তাকে ইসরাইলি আইনসভায় ভাষণ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেই আমন্ত্রণের প্রেক্ষিতেই তিনি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

প্রায় দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গত মাসের শেষ দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। এর পরপরই হোয়াইট হাউসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর তিনি প্রকাশ করেন ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা।

এই ২০ দফা প্রস্তাবকে ভিত্তি করে গত ৬ অক্টোবর মিশরের পর্যটন শহর শারম আল–শেখে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইলের প্রতিনিধিদের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। তিনদিনব্যাপী আলোচনার পর ৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে উভয় পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের প্রথম ধাপ মেনে নিতে সম্মত হয়...

চুক্তিটি আরব ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম বৃহত্তম কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন। অনেকের মতে, এটি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে পুনর্মিলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

চুক্তি প্রণয়নে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা ও সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তারা জেরুজালেমে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ইসরাইলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি অনুমোদন পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সফল বাস্তবায়ন ট্রাম্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক বিজয়। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে শান্তি ফিরিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠন ও পুনর্গঠন সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমা ও আরব দেশগুলো ইতোমধ্যেই প্যারিসে এক বৈঠকে মানবিক সহায়তা, অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং গাজায় স্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা