কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এস এম তাজুল হাসান সাদ, নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অসদাচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে তার পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি অংশ।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের সঙ্গে অশোভন ভাষায় কথা বলেন, স্থানীয় জনগণ সম্পর্কে কটূক্তি করেন এবং নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ল্যাবের সামগ্রী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তারা। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ ইনস্ট্রাক্টর সঞ্জয় কুমার বাহাদুর অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রায়ই শিক্ষকদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) ও শোকজের ভয় দেখিয়ে চাপ প্রয়োগ করেন। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তার দাবি, অধ্যক্ষ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের সঙ্গেও জড়িত।

এদিকে গণিত বিভাগের ইন্সট্রাক্টর হাবিবুল্লাহ অভিযোগ করেন, গত বুধবার সকালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সন্দেহ থেকেই এমন আচরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছেন বলেও জানান।

অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে তিনি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, নারী শিক্ষার্থীর হিজাব খুলে দেওয়ার অভিযোগ এবং সাতক্ষীরার মানুষ সম্পর্কে কটূক্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার বক্তব্য খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

শিক্ষকদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি বিধি-বিধান ও বিএসআর অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের জেরে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি অংশ। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।