রাজধানীতে ইন্টার্ন চিকিৎসকের রহস্যজনক মৃত্যু: ৩ দিন নিখোঁজের পর ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর শাহবাগ এলাকার আজিজ সুপার মার্কেটের একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে ফারা ফেরদৌস (২৭) নামে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তিন দিন পরিবারের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে তার নিথর দেহের সন্ধান মেলে।
নিহত ফারা ফেরদৌস খুলনার ফুলতলা থানার পয়গ্রাম গ্রামের মো. আ. রশিদ ও ফেরদৌসি রশিদের কন্যা। তিনি ঢাকায় অবস্থান করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর পড়াশোনা করছিলেন এবং একটি হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিগত ২০২২ সাল থেকে তিনি আজিজ সুপার মার্কেটের আবাসিক ভবনের ১৪ তলার একটি ফ্ল্যাটে একাকী ভাড়া থাকতেন।
তিন দিন নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার:
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুনের পর থেকে ফারার সাথে তার পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। স্বজনরা বারবার ফোনে ও অন্যান্য মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো খোঁজ পাননি। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আজ শুক্রবার বিকেলে স্বজনরা খুলন থেকে ঢাকায় তার ভাড়া বাসায় আসেন।
বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে বাসার দরজা খুলে ঘরের ভেতরে ফারার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি শাহবাগ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।
পুলিশের তৎপরতা ও ময়নাতদন্ত:
খবর পেয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল হক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া:
একজন মেধাবী মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকের এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে তার পরিবার, সহপাঠী ও চিকিৎসক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফারার বড় বোন নুজুলা ফেরদৌসসহ উপস্থিত স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। ঠিক কী কারণে, কখন এবং কীভাবে এই তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য:
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, "খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এটি আত্মহত্যা, স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন (পোস্টমর্টেম রিপোর্ট) হাতে পেলেই সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাবে।"
পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আজিজ সুপার মার্কেটের ওই ভবনের নিরাপত্তা কর্মী ও আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।









