কালাইয়ে প্রাচীর নির্মাণে হাতের ঠেলায় নড়ল ইটের গাঁথুনি, ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাচীর ভেঙে দিল জনতা

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৪৬ পিএম
কালাইয়ে প্রাচীর নির্মাণে হাতের ঠেলায় নড়ল ইটের গাঁথুনি, ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাচীর ভেঙে দিল জনতা

সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের কালাই সরকারি ময়েন উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬২৫ ফিট প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। ইট গাঁথুনির পর হলফল করে নড়াই উত্তেজিত জনতা সেই প্রাচীর হাতের ঠেলা দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে।উত্তেজিত জনতার অভিযোগ, কম পরিমান সিমেন্ট দিয়ে ইট গাঁথুনি করায় প্রাচীর হলফল করে নড়ে। ঝুকি থাকায় জনগন তা হাত দিয়ে ঠেলে ভেঙ্গে ফেলেছে। সিডিউল মোতাবেক কাজ করতে দাবী করেছেন তারা। আর ঠিকাদার বলছেন ভিন্ন কথা, গাঁথুনির পর জমাট হতে সময় লাগে, তার আগেই জনগন প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছে। আসলে সিডিউল অনুযায়ীই কাজ করা হচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে কালাই ময়েনউদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। দরপত্রের মাধ্যমে ওই কাজের দায়িত্ব পান জয়পুরহাটের মেসার্স এমরান কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ পেয়ে কাজ শুরু করেছে ঠিকাদার। এরইমধ্যে বিমের কাজ শেষ হয়েছে এবং ইট গাঁথার কাজ শুরু করেছে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছেনা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ইট গাঁথার পর প্রাচীর হলফল করে নড়ে। ঝুকি মনে করে স্থানীয় লোকজন প্রাচীরের ইটগুলো হাত দিয়ে ঠেলা মেরে ভেঙ্গে ফেলেছে। তাদের দাবী, সিডিউলের বাহিরে এখানে কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না। 

প্রাচীর ভাঙ্গার সময় উপস্থিত ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মোত্তালিব হোসেন। তিনি বলেন, যেখানে এক কড়াই সিমেন্ট ও চার কড়াই বালু মিকসার করে ইট গাঁথার কথা, সেখানে মিস্ত্রিরা এক কড়াই সিমেন্টের সাথে আট কড়াই বালু দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সে কারনেই জমাট না হয়ে ইটগুলো হাতের ঠেলায় খুলে যাচ্ছে এবং বালু ও সিমেন্ট (মসলা) ঝুরঝুর করে পড়ে যাচ্ছে। যে কোনো সময় প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সবাই মিলে প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছে। 

ঠিকাদারের নিয়োজিত কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা রবিউল ইসলাম বলেন, সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই কাজ হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন অযাচিত ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছে। আসলে ইট গাঁথার পর জমাট হতে কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা সময় অতিবাহিত হতে হয়। তার আগেই লোকজন প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছে। বিষয়টি প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম বকুল বলেন, কাজ দেখভালের জন্য বিদ্যালয় থেকে তিন সদস্যর একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা এই কাজ দেখভাল করছেন। কাজ এখনও শেষই হয়নি, তার আগেই লোকজন এসে প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছে। কেন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজের মান খারাপ বলে ভেঙ্গে ফেলেছে। 

জয়পুরহাট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারি প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, স্থানীয় লোকজন প্রাচীর ভেঙে ফেলেছে, এমন অভিযোগ এইমাত্র শুনলাম।যদি নির্মাণ কাজে মানগত কোনো ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।