আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়কেই ‘বিশ্বাসঘাতক’ বললেন সমর্থক!
সূত্রঃ সংগৃহীত
স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হতাশা যে কতটা গভীর ছিল, তারই মজার এক অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনা। নিজের পরিচয় গোপন রেখে প্রায় এক ঘণ্টা এক সমর্থকের মুখে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অভিযোগ শুনেছেন তিনি। অথচ যার সামনে বসে ওই ব্যক্তি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলছিলেন, তিনিই ছিলেন জাতীয় দলের একজন ফুটবলার।
ঘটনাটি ঘটে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর মেদিনা নিজ এলাকায় ফিরে গেলে। সেখানে একটি গাড়ির গ্যারেজে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস মেদিনার বক্তব্যের বরাতে ঘটনাটি প্রকাশ করেছে।
গ্যারেজে পৌঁছানোর পর মেদিনাকে মাতের কাপ দিয়ে স্বাগত জানান গ্যারেজ মালিক। দক্ষিণ আমেরিকায় জনপ্রিয় এই পানীয়ের পাত্রে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের তিনটি তারকার প্রতীক ছিল। সেটি দেখেই ওই ব্যক্তির বিশ্বকাপের ফাইনালের কথা মনে পড়ে যায়। এরপর শুরু হয় আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা।
মেদিনা জানান, গ্যারেজ মালিকের মধ্যে তখন ব্যাপক ক্ষোভ কাজ করছিল। তার দাবি ছিল, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা নাকি ইচ্ছা করেই ফাইনাল স্পেনের কাছে ছেড়ে দিয়েছেন। এমনকি খেলোয়াড়দের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবচেয়ে মজার বিষয়, যার সামনে বসে এসব কথা বলা হচ্ছিল, সেই মেদিনাই যে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের খেলোয়াড়—তা গ্যারেজ মালিক জানতেন না।
মেদিনাও তখন নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি। বরং নীরবে তার অভিযোগ শুনতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ওই সমর্থককে আরও বিস্তারিত বলতে উৎসাহ দেন। জানতে চান, কী কারণে তার মনে হয়েছে আর্জেন্টিনা ইচ্ছা করেই ম্যাচটি হেরে গেছে।
জবাবে গ্যারেজ মালিক নিজের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা আসলে ম্যাচটা ছেড়ে দিয়েছি। আমরা ম্যাচটা ছুড়ে দিয়েছি।’
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ওই ব্যক্তির ক্ষোভ ও হতাশার কথা শুনলেও মেদিনা তাকে থামাননি। তিনি পুরো বিষয়টি বেশ উপভোগই করছিলেন। নিজের পরিচয় প্রকাশ করলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে—এমনটা বুঝেই শেষ পর্যন্ত চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে শেষ পর্যন্ত তার পরিচয় গোপন থাকেনি। গ্যারেজের পাশের একটি বেকারি থেকে বের হওয়া এক প্রতিবেশী মেদিনাকে চিনে ফেলেন। পরে তিনি গ্যারেজ মালিকের সঙ্গে থাকা এক নারীকে বিষয়টি জানান। তখন ওই নারী বুঝতে পারেন, এতক্ষণ যার সামনে বসে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করা হচ্ছিল, তিনি আসলে আর্জেন্টিনা দলেরই একজন ফুটবলার।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ওই নারী প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে যান এবং কাঁদতে শুরু করেন। দূর থেকে বিষয়টি দেখছিলেন মেদিনা। পরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে তিনিই তার কাছে এগিয়ে যান। তবে কোনো রাগ বা বিরক্তি প্রকাশ না করে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
মেদিনা তাকে বোঝান, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা কোনোভাবেই ম্যাচ ছেড়ে দেননি। তারা বরং জয় পাওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিলেন। এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হতাশার তীব্রতাও কিছুটা ফুটে ওঠে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই ফেরান তোরেসের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে বিশ্বকাপ জিতে নেয়।
ফাইনালে মেদিনা শুরু থেকে মাঠে ছিলেন না। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ম্যাচের বাকি সময় ও অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব পালন করেন এই ডিফেন্ডার।
ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্বও ছড়িয়ে পড়ে। দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও খেলোয়াড়দের সম্পর্ক নিয়েও নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। তবে মেদিনা এসব গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। দেশে ফিরে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাজে কথা বিশ্বাস করবেন না।’ একই সঙ্গে দলের ভেতরের পরিবেশ ভালো ছিল বলেও জানান তিনি।
এমকে/বিএম২৪








