সময়মতো আদালতে না আসায় পরীমনির জেরা পিছিয়েছে

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
সময়মতো আদালতে না আসায় পরীমনির জেরা পিছিয়েছে

সূত্রঃ সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক



ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনি সময়মতো আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার জেরা পিছিয়ে গেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর জেরার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।


রোববার ঢাকার নবম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহাদাৎ হোসেন এ তারিখ ঘোষণা করেন।


এদিন সকাল ১১টার দিকে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী আদালতকে জানান, তার মক্কেল আদালতে আসবেন। এরপর জেরার জন্য দুপুর ১২টা সময় নির্ধারণ করা হয়।


নির্ধারিত সময়ে আদালত থেকে দুই দফা পরীমনিকে ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। আইনজীবী জানান, যানজটে আটকে থাকায় সময়মতো আদালতে পৌঁছাতে পারেননি পরীমনি। এর মধ্যে মামলার অন্যান্য কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে আসামিরাও আদালত ত্যাগ করেন। ফলে এদিন তার জেরা আর নেওয়া সম্ভব হয়নি।


পরে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরীমনি।


মামলার তিন আসামি হলেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলম। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এদিন শহীদুল আলম আদালতে উপস্থিত না হয়ে সময়ের আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়। অন্য দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।


যেভাবে শুরু হয়েছিল মামলা


২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বিরুলিয়ায় তুরাগ নদের তীরে অবস্থিত বোট ক্লাবে তাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরীমনি। বিষয়টি নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।


এর পাঁচ দিন পর, ১৩ জুন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পরীমনি তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে ঘটনার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি। পরে ওই পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।


পোস্ট দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর গুলশানে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেও একই অভিযোগ করেন পরীমনি। পরদিন সাভার মডেল থানায় ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মামলা করেন তিনি।


মামলার পর রাজধানীর উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে নাসির উদ্দিন ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।


তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নাসিরসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সাভার থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন। পরে ২০২২ সালের ১৮ মে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।


মামলাটির বিচার রুদ্ধদ্বার কক্ষে চলছে। ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর পরীমনি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন। তবে তার সাক্ষ্য এখনো শেষ হয়নি। জেরা হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় তা পিছিয়ে আগামী ৩০ নভেম্বর করা হয়েছে।



এমকে/বিএম২৪