‘আমাদের সরকার প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় সর্বোচ্চ কাজ করে যাচ্ছে’: বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী
সূত্রঃ সংগৃহীত
জাবি প্রতিনিধি
দেশের বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এশিয়ান হাতিসহ বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় সরকার, গবেষক, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে ‘The Coexistence Dialogue: People, Elephant & Shared Landscapes’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় মানুষ ও হাতির সহাবস্থান, হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। কী-নোট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, বন উজাড় ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে মহাবিপন্ন এশিয়ান হাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশে একশর কিছু বেশি হাতি থাকা উদ্বেগের বিষয়। মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় সংঘাত বাড়ছে। এ কারণে হাতির চলাচলের পথ ও আবাসস্থল সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাতির কারণে ফসলের ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও রয়েছে।
হাতির চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো স্থাপনা বা প্রতিবন্ধকতার তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে সুন্দরবনে বাঘ ও মানুষের সংঘাত কমাতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লোকালয়ের পাশে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার এলাকায় ফেন্সিং করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে জলাশয় ও শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, নদী ও জলাশয় দূষণের উৎস চিহ্নিত করে সরকার কাজ শুরু করেছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য, সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার দূষণসহ বিভিন্ন উৎস শনাক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে তুরাগ ও বুড়িগঙ্গার প্রায় ৩৮ কিলোমিটার এলাকায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে ম্যাপিং ও কার্যক্রম চলছে।
তিনি বলেন, শিল্পকারখানাগুলোকে ইটিপি ও এসটিপি যথাযথভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা নিয়ম মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি শাহরিয়ার অনির্বাণ ও প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোস্তফা ইউসুফকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, জাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে/বিএম২৪









