২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের নাম বদল, জিয়াউর রহমান চত্বর এখন ‘হাদি চত্বর’

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের নাম বদল, জিয়াউর রহমান চত্বর এখন ‘হাদি চত্বর’

সংগৃহীত

নোয়াখালী প্রতিনিধি


নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের একটি চত্বরের নাম ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও পরিবর্তন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে চত্বরটির নাম ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’ ঘোষণা করা হলেও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর সেখানে শহীদ ওসমান হাদির ছবি টানিয়ে ‘হাদি চত্বর’ ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চত্বরটির নামও একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। সর্বশেষ নাম পরিবর্তনের ঘটনায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি সরিয়ে ওসমান হাদির ছবি টানানো হয়। নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের নির্দেশে জিয়াউর রহমানের ছবি সরানো হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, অতিউৎসাহী কিছু ব্যক্তি ছবিটি লাগিয়েছিলেন।


জানা গেছে, ২০২০ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বর’ স্থাপন করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চত্বরটির উদ্বোধন করেন নোয়াখালী-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী।


পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা শেষে ওই চত্বরের নাম ‘ওসমান হাদি চত্বর’ ঘোষণা করেন জুলাই সর্বদলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা। সে সময় নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হারুনুর রশীদ আজাদসহ জামায়াত, শিবির ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে চত্বরটির নাম ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’ ঘোষণা করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নাম ঘোষণা করেন। তবে এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার জুমার নামাজের পর চত্বরটিতে ওসমান হাদির ছবি টানিয়ে আবারও ‘হাদি চত্বর’ ঘোষণা করা হয়। ছবির নিচে ‘আজাদী মঞ্চ’ নামটিও যুক্ত করা হয়।


চত্বরটির নাম পরিবর্তন নিয়ে বিএনপির নেতাদের মধ্যেও ভিন্নমত দেখা গেছে। নোয়াখালী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কোনো স্থাপনার নামফলক মুছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিংবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে চত্বর করার ইচ্ছা দলটির নেই।


তাঁর ভাষ্য, বিএনপি সস্তা রাজনীতি করে না। নোয়াখালীতে কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ ধরনের কিছু করলে তার দায় বিএনপি নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ক্ষমতায় থাকলে এক নামে আর ক্ষমতায় না থাকলে অন্য নামে চত্বর করার সংস্কৃতির অবসান হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।


এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। আগামীকাল এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলব। আমাদের সভা আছে।’


নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য ওমর ফারুক টফি বলেন, রাজনীতিতে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রচারের চেয়ে আদর্শ, শৃঙ্খলা ও দলের প্রতি দায়বদ্ধতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে তা আন্তরিকতা ও আদর্শের মাধ্যমে হওয়া উচিত, অতিউৎসাহ বা ব্যক্তিস্বার্থের মাধ্যমে নয়।


তিনি আরও বলেন, জননেতা মো. শাহজাহানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান সবার জন্য অনুসরণীয় হওয়া উচিত। রাজনীতি হতে হবে আদর্শের, সস্তা প্রচারের নয়।


এমকে/বিএম২৪