সাভারের আলোচিত মুসা বাহিনীর প্রধান মুসা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত
ফাহমিদা হৃদী, স্টাফ রিপোর্টার
সাভারের হেমায়েতপুরের আলোচিত মুসা বাহিনীর প্রধান মোশাররফ হোসেন মুসাকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে অপু রাড়িকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন মুসা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগেও ২০২৫ সালে হেমায়েতপুরের ব্যবসায়ী রমজানকে গুলি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মুসা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এক ডজন অভিযোগ ও কয়েকটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায় করা একাধিক মামলারও আসামি তিনি।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে চাঁদাবাজি, দখলবাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন মুসা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির পদ নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের ৯ জুলাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে মোশাররফ হোসেন মুসাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
তবে দল থেকে বহিষ্কারের পরও হেমায়েতপুর এলাকায় তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, অস্ত্রের মহড়া, দখলবাণিজ্য, গুলি করে চাঁদা আদায়, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত মুসা ও তার অনুসারীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মুসা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকতেন। একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকেও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হেমায়েতপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানা, ঝুট ব্যবসা, মহাসড়ক ও মহল্লার সড়কের ফুটপাত, বিভিন্ন স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল মুসা বাহিনী। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
মোশাররফ হোসেন মুসার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা হোসেন জানান, পলাতক এই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে মুসা বাহিনীর প্রধানের গ্রেপ্তারের খবরে হেমায়েতপুরসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এমকে/বিএম২৪








